ডিম চুরি করে খেত ডাইনোসরের যে প্রজাতি
প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করা ‘ম্যানিপুলোনিক্স রেশেটোভাই’ প্রজাতির ডাইনোসর অন্য ডাইনোসরের ডিম চুরি করে খেত বলে জানিয়েছেন প্রোসিডিংস অব দ্য জুলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব দ্য রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের একদল গবেষক। তাঁদের মতে, কুকুর আকৃতির আকারে ছোট অদ্ভুতদর্শনের ডাইনোসরটির হাতের সামনের অংশে ছিল একটি বিশাল নখ, পাশে দুটি আঙুল ও একগুচ্ছ ধারালো কাঁটা। ডিমের পিচ্ছিল উপরিভাগ শক্ত করে ধরে রাখার জন্য এটি ছিল এক আদর্শ হাতিয়ার।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের জীবাশ্মবিদ স্টিফেন ব্রুসেট বলেন, ‘সত্যি বলতে কোনো ডাইনোসরের ফসিল দেখে এর আগে কখনো এত অবাক হইনি আমি। প্রথম দর্শনে ভেবেছিলাম, এটি হয়তো কোনো অতিকায় লবস্টার বা সামুদ্রিক তারামাছের ধ্বংসাবশেষ। ১৯৭৯ সালে মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে এক রুশ বিজ্ঞানী এই প্রাণীটির কঙ্কালের কিছু অংশ খুঁজে পেয়েছিলেন। ক্রিতাশিয়াস যুগের শেষ দিকের সেই অঞ্চলে একসময় জলাভূমি ছিল। সেখানে টি–রেক্সের আত্মীয় টারবোসরাস ও বর্মধারী অ্যানকিলোসরাসের মতো দানবীয় সব ডাইনোসর বাস করত। তাদের পায়ের নিচ দিয়েই ঘুরে বেড়াত এই খুদে ম্যানিপুলোনিক্স।’
ম্যানিপুলোনিক্স আলভারেজসরিড পরিবারের সদস্য ছিল। এদের ছোট হাতের শেষে একটি বড় হুকের মতো নখ থাকত। এই বিচিত্র হাত তারা কীভাবে ব্যবহার করত, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কেউ মনে করেন, তারা বর্তমানের অ্যান্টইটার বা পিপীলিকাভুক প্রাণীদের মতো মাটির তলা থেকে পোকামাকড় খুঁড়ে খেত। আবার কারও মতে, হাতের দৈর্ঘ্য কম হওয়ায় তারা নিচু হয়ে মাটি থেকে পোকা খেতে পারত না; বরং বড় ডাইনোসরদের ডিম খেয়েই জীবনধারণ করত।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক আলেক্সান্ডার অ্যাভেরিয়ানভ জানান, ‘এই আবিষ্কার অনন্য। কারণ, এর হাতের হাড় একদম নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত ছিল। ম্যানিপুলোনিক্সের হাতের কাঁটাগুলো সম্ভবত কেরাটিন দিয়ে ঢাকা ছিল, যা আমাদের নখ তৈরিতে কাজ করে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাইনোসরগুলো এই কাঁটা ও পাশের আঙুল দিয়ে ডিম শক্ত করে চেপে ধরত এবং বড় নখটি দিয়ে ডিমের শক্ত খোলস ফাটিয়ে ফেলত। এই ডাইনোসররা রাতের আঁধারে ডিম চুরি করত। তাদের চোখ ছিল বড় এবং শ্রবণশক্তি ছিল অত্যন্ত প্রখর। তারা মূলত ওভির্যাপ্টরোসর নামক এক প্রজাতির ডাইনোসরের বাসা থেকে ডিম চুরি করতে পছন্দ করত। ম্যানিপুলোনিক্সের মতো চতুর শিকারির হাত থেকে ডিম বাঁচানো ছিল বেশ কঠিন কাজ।’
স্টিফেন ব্রুসেটের মতে, ‘ডিম চুরির তত্ত্বটি বেশ জোরালো। এই অদ্ভুত হাত দিয়ে তারা হয়তো আরও বিচিত্র কোনো কাজ করত, যা আমরা এখনো জানি না। আমি কেবল এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, তারা এই হাত দিয়ে উড়ত না বা সাঁতার কাটত না।’
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস