হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা থেকে বেঁচে ফেরা গাছের গল্প
১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন, আগামী কয়েক দশকে সেখানে কোনো উদ্ভিদ জন্মাবে না। কারণ, বিস্ফোরণস্থলের তাপমাত্রা ছিল অসহনীয় মাত্রায় বেশি এবং তেজস্ক্রিয়তার স্তর ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। কিন্তু প্রকৃতি সব অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই হিরোশিমায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।
বিস্ফোরণের পর বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে কোনো ধরনের সবুজ জীবন ফিরে পেতে বছরের পর বছর সময় লাগবে। অথচ ১৯৪৬ সালের বসন্ত আসতেই ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে বের হতে শুরু করে প্রাণের অঙ্কুর। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গিংকগো বিলোবা বা গিংকগোগাছ, যাকে তার প্রাগৈতিহাসিক উৎসের কারণে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
বিস্ফোরণস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে থাকা এই গাছ প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে এই বেঁচে যাওয়া গাছ জাপানে হিবাকুজুমোকু নামে পরিচিত। জাতিসংঘ এই গাছগুলোকে স্থিতিস্থাপকতা এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দিয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই গাছগুলোর বেঁচে থাকার পেছনে কাজ করেছে তাদের নিজস্ব গঠনগত বৈশিষ্ট্য, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্রতিকূলতা প্রতিরোধের ক্ষমতা বলা হয়। এই গাছগুলোর ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। এসব গাছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট তাদের অণুর ওপর তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকারক প্রভাব কমাতে সাহায্য করেছে।
প্রাণীদের মতো গাছ কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা তাদের দেহের বড় অংশ হারিয়েও বেঁচে থাকতে পারে। এই সাধারণ বিষয়টি গাছের বিকাশে দেখা যায়। মাটির গভীরে থাকা গাছের মূল তেজস্ক্রিয়তার সরাসরি প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, যা থেকে পরে নতুন ডালপালা গজানো সম্ভব হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া