১০০ বছর পর দেখা গেল বিলুপ্তপ্রায় নাইট প্যারট

নাইট প্যারটআর্থ ডটকম

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল মরুভূমির গহিন প্রান্তরে দেখা মিলেছে রহস্যময় এক পাখির। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ১০০ বছর ধরে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখিটির নাম নাইট প্যারট বা রাতের তোতাপাখি। এই ছোট সবুজ–হলুদ রঙের পাখিটির পুনরাবিষ্কার বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

নাইট প্যারট অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। এই পাখিরা দিনের বেলা মরুভূমির ঘন ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে এবং কেবল রাতের অন্ধকারে খাবারের সন্ধানে বের হয়। দীর্ঘ সময় দেখা না মেলায় অনেক বিশেষজ্ঞই ভেবেছিলেন, এ প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্থানীয় আদিবাসী রেঞ্জার ও বিজ্ঞানীদের একটি দল আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এই অসাধ্য সাধন করেছেন।

নাইট প্যারটের ডাক অনেকটা ঘণ্টার মতো, ফলে রেকর্ডারের মাধ্যমে পাখির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। আর তাই পাখিটির খোঁজে বিজ্ঞানীরা মরুভূমির বিভিন্ন স্থানে পানিরোধী অডিও রেকর্ডার স্থাপন করেছিলেন। ধারণ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জরিপ করা অর্ধেকের বেশি স্থানেই এই পাখির অস্তিত্ব রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, শুধু এই সংরক্ষিত এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৫০টি নাইট প্যারট বসবাস করছে।

নাইট প্যারট দিনের বেলা বুল স্পিনিফেক্স নামক একধরনের ঘন ও পুরোনো ঘাসের গুচ্ছের ভেতরে লুকিয়ে থাকে। এই ঘাস প্রাকৃতিকভাবে গম্বুজাকৃতি ধারণ করে। এই ঘাস পাখিদের শীতল রাখতে ও শিকারির হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে।

এ বিষয়ে কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুসংস্থানবিদ নিক লিজবার্গ বলেন, নাইট প্যারট বেঁচে থাকার জন্য পুরোনো ও ঘন ঘাসের ওপর নির্ভরশীল। মরুভূমির দাবানলের কারণে এই ঘাস বড় হওয়ার সময় পায় না, যা এদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। গবেষণার সময় নাইট প্যারটের আবাসস্থলের কাছে ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রচুর অস্ট্রেলিয়ার বন্য কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণত বন্য কুকুরের উপস্থিতি ছোট পাখির জন্য বিপজ্জনক মনে হলেও সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ডিঙ্গো নামের বন্য কুকুর প্রধানত বনবিড়াল শিকার করে বা তাদের তাড়িয়ে রাখে। এই বনবিড়াল নাইট প্যারটের প্রধান শত্রু, যারা রাতের অন্ধকারে পাখির ছানাদের খেয়ে ফেলে। ডিঙ্গোরা এলাকায় থাকায় বিড়ালের উপদ্রব কম থাকে, যার ফলে নাইট প্যারটের বংশবৃদ্ধি সহজ হচ্ছে। এই পুরো অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় আদিবাসী রেঞ্জারদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানীদের আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়েই এই অসম্ভব ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা এখন পাখির পালক থেকে ডিএনএ সংগ্রহ ও ক্ষুদ্র ট্র্যাকিং ট্যাগ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র: আর্থ ডটকম