চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলখ্যাত লাস্কার পুরস্কার পেলেন যাঁরা

লাস্কার পুরস্কার পেয়েছেন তাকেহিসা কিতাজাওয়া, তোমোয়ুকি ইগাওয়া, কুনিহিরো হাত্তরি, মাইকেল জে ফক্স, ইমানুয়েল মিগনট ও মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া (ঘড়ির কাঁটার দিকে)ছবি: লাইভ সায়েন্স

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর লাস্কার পুরস্কার প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নোবেল হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মৌলিক চিকিৎসা গবেষণা, ক্লিনিক্যাল সায়েন্স ও জনসেবা বিভাগে লাস্কার পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে লাস্কার ফাউন্ডেশন।

মৌলিক চিকিৎসা গবেষণায় পুরস্কার পেয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ইমানুয়েল মিগনট এবং জাপানের ইউনিভার্সিটি অব সুকুবার মাসাশি ইয়ানাগিসাওয়া। এই দুই বিজ্ঞানী মস্তিষ্কে এমন এক রাসায়নিক উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যা মানুষের ঘুম ও জাগরণের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। নারকোল্যাপসি নামের এক বিশেষ ঘুমের ব্যাধিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে এ উপাদানের ঘাটতি দেখা যায়। দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া এবং হঠাৎ পেশির শক্তি হারিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা এ রোগের লক্ষণ।

বিজ্ঞানীরা কোষের উপরিভাগে থাকা জিপিসিআর নামের প্রোটিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁরা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা বিশেষ পেপটাইড আবিষ্কার করেন। ক্ষুধা মেটানোর গ্রিক শব্দ ওরেক্সিস থেকে এই পেপটাইডের নাম দেওয়া হয়েছে ওরেক্সিন। উপাদানটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে মূলত মানুষকে সজাগ রাখতে সাহায্য করে। মানুষের নারকোল্যাপসি রোগের পেছনেও এই ওরেক্সিনের ঘাটতি দায়ী বলে জানিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের এই যৌথ আবিষ্কার অনিদ্রা ও নারকোল্যাপসির নতুন ওষুধ তৈরির পথ উন্মুক্ত করবে।

ক্লিনিক্যাল মেডিকেল রিসার্চ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন চুগাই ফার্মাসিউটিক্যালসের কুনিহিরো হাত্তরি, তাকেহিসা কিতাজাওয়া এবং তোমোয়ুকি ইগাওয়া। ‘হেমোফিলিয়া এ’ নামের বংশগত রক্তক্ষরণজনিত রোগের অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন এই তিন বিজ্ঞানী। জিনগত ত্রুটির কারণে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে পর্যাপ্ত ফ্যাক্টর এইট তৈরি হয় না। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না এবং সামান্য আঘাতেই মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটে। বিজ্ঞানীরা ফ্যাক্টর নাইন ও ফ্যাক্টর টেনকে যুক্ত করে এক নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি করেন। এমিসিজুম্যাব নামের এ ওষুধ ২০১৭ সালে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন লাভ করে। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ৩০ হাজারের বেশি রোগী এই জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

জনসেবা বিভাগে লাস্কার পুরস্কার পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। পারকিনসনস রোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা তহবিল সংগ্রহের কাজে ভূমিকা রাখায় এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে পারকিনসনস রোগে আক্রান্ত হন মাইকেল জে ফক্স। পারকিনসনস রোগ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করতে বিভিন্ন গবেষণার জন্য এ পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন তিনি। লাস্কার ফাউন্ডেশনের এই সম্মাননা পারকিনসনস রোগে আক্রান্ত সবাইকে উৎসর্গ করেছেন মাইকেল জে ফক্স।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স