৩১৪ লাখ কোটি ঘর পর্যন্ত পাইয়ের মান নির্ণয়ে বিশ্ব রেকর্ড

আন্তর্জাতিক পাই দিবসের একটি গ্রাফিকস। থমসন রয়টার্স

১৪ মার্চ বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক পাই দিবস পালন করা হয়। এবারের পাই দিবস পালন করতে এন্টারপ্রাইজ আইটি–বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা স্টোরেজ-রিভিউর গবেষকেরা নতুন এক চমক তৈরি করেছেন। তাঁরা গাণিতিক ধ্রুবক পাইয়ের মান নির্ণয়ে এক নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন, যেখানে দশমিকের পর ৩১৪ ট্রিলিয়ন (৩১৪ লাখ কোটি) ঘর পর্যন্ত মান গণনা করা হয়েছে।

গাণিতিক ভাষায় নতুন মান দশমিকের পর ৩১৪ লাখ কোটি দশমিক স্থান পর্যন্ত গণনা করা হয়েছে। নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির মতে, মহাবিশ্বের পরিধি একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রস্থের সমান নির্ভুলভাবে পরিমাপ করতে পাইয়ের মাত্র ৩৭টি দশমিক স্থানের প্রয়োজন হয়। সেখানে ৩১৪ ট্রিলিয়ন ঘর পর্যন্ত এই গণনা আধুনিক কম্পিউটিং ক্ষমতার এক অভাবনীয় নিদর্শন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে স্টোরেজ-রিভিউ ল্যাবের পরিচালক কেভিন ও’ব্রায়েন লিখেছেন, ‘স্টোরেজ-রিভিউ ৩১৪ ট্রিলিয়ন ডিজিটের মাধ্যমে পাইয়ের মান জানতে পেরেছে। আমরা কেবল আগের রেকর্ড ভাঙিনি, বরং কার্যক্ষমতা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং সবচেয়ে বড় কথা নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছি। বিরতিহীনভাবে বা জিরো ডাউনটাইমে সম্পন্ন হওয়া এটিই একমাত্র বড় মাপের পাইয়ের বিশ্ব রেকর্ড।’

আগের অনেক রেকর্ডে বিশাল ক্লাউড কম্পিউটিং বা ডিস্ট্রিবিউটেড ক্লাস্টার ব্যবহার করা হলেও স্টোরেজ-রিভিউ এ কাজ সম্পন্ন করেছে মাত্র একটি ডেল পাওয়ার-এজ আর৭৭২৫ কম্পিউটার সার্ভারে। এই সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়েছে দুটি এএমডি এপিক প্রসেসর এবং ৪০টি উচ্চক্ষমতার এনভিএমই সলিড-স্টেট ড্রাইভ। এর মধ্যে ৩৪টি ড্রাইভ টানা ১১০ দিন ধরে বিশেষায়িত সফটওয়্যার ‘ওয়াই ক্রাঞ্চার’ ব্যবহার করে এই জটিল গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করেছে।

পাইয়ের মান নিয়ে এই প্রতিযোগিতা ১৫ বছর ধরে চলছে। ২০১০ সালে ৫ ট্রিলিয়ন ডিজিট দিয়ে এই লড়াই শুরু হয়েছিল। প্রতিযোগীরা প্রায়ই ৩ দশমিক ১৪ সংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে তাঁদের রেকর্ডের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। ২০২২ সালে গুগলের এমা হারুকা ইওয়াও ১০০ ট্রিলিয়ন ডিজিটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তার আগে ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের গ্রাউবুনডেন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা ৬২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডিজিট পর্যন্ত গণনা করেছিলেন। স্টোরেজ-রিভিউর সাম্প্রতিক ৩১৪ ট্রিলিয়ন ডিজিটের এ রেকর্ড আবার পাইয়ের মূল মানের (৩ দশমিক ১৪) সঙ্গে একটি চমৎকার সামঞ্জস্য ফিরিয়ে এনেছে।

এত বিশাল পরিসরে পাইয়ের মান নির্ণয় করা এখন আর কেবল গণিতের বিষয় নয়, এটি বিশাল পরিমাণ তথ্য বা ডেটা ম্যানেজমেন্টের একটি পরীক্ষা। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডিজিট গণনা করার সময় বিপুল পরিমাণ অস্থায়ী ডেটা বা টেম্পোরারি ডেটাসেট তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রে প্রসেসরের চেয়েও স্টোরেজ সিস্টেমের গতি এবং ধারণক্ষমতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। স্টোরেজ-রিভিউর নতুন রেকর্ড ২০২৫ সালের মে মাসে লিনাস মিডিয়া গ্রুপ এবং স্টোরেজ কোম্পানি কিয়োক্সিয়ার গড়া ৩০০ ট্রিলিয়ন ডিজিটের রেকর্ডের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ও সাশ্রয়ী।

স্টোরেজ-রিভিউ তাদের সার্ভারটিকে এমনভাবে কনফিগার করেছিল, যাতে এনভিএমই ড্রাইভগুলো সরাসরি প্রসেসরের সঙ্গে হাইস্পিড পিসিআইই লেনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এর ফলে বিশাল ফাইল লেখা বা পড়ার সময় কোনো ধীরগতি বা বটলনেক তৈরি হয়নি। এই পদ্ধতি বিশাল স্টোরেজ সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং শীতলীকরণ খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনে। আগে পাইয়ের রেকর্ড ভাঙতে ব্রুট ফোর্স বা অনেক বেশি হার্ডওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হতো। লিনাস মিডিয়া গ্রুপের ৩০০ ট্রিলিয়ন সংখ্যা গণনায় অনেক বড় স্টোরেজ অ্যারে এবং প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়েছিল। স্টোরেজ-রিভিউ প্রমাণ করেছে যে কেবল যন্ত্রাংশের পাহাড় জমিয়ে নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিস্টেম সাজিয়ে অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে রেকর্ড গড়া সম্ভব।

স্টোরেজ-রিভিউর এই নতুন রেকর্ডটি অন্যদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ও’ব্রায়েন লিখেছেন, ‘যদি কেউ এই রেকর্ড ভাঙতে চায়, তবে আমরা চাইব তারা সামগ্রিকভাবে জয়ী হোক। আরও বেশি ডিজিট, কম বিদ্যুৎ খরচ, কম সময় এবং জিরো-ডাউনটাইম নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হবে।’

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট