ডাইনোসরের শরীরের রং কী ছিল

শিল্পীর কল্পনায় ডাইনোসরফাইল ছবি: রয়টার্স

বিশালাকার ডাইনোসরের কথা ভাবলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধূসর বা বাদামি চামড়ার এক প্রাণীর ছবি। সরাসরি প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ডাইনোসর সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না মেলায় দীর্ঘদিন ধরেই ডাইনোসর দেখতে কেমন ছিল, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। ডাইনোসরের হাড় ফসিল পাথরে পরিণত হলেও তাদের চামড়া বা গায়ের রং ফসিল হওয়ার সময় টিকে থাকে না বললেই চলে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা এ ধারণা বদলে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় সন্ধান পাওয়া কম বয়সী ডিপ্লোডোকাস প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মীভূত চামড়া পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু ক্ষুদ্র কাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন, যা সরাসরি রঙের সঙ্গে যুক্ত।

প্রাণীর গায়ের রং মূলত চামড়া বা পালকের ভেতরে থাকা মেলানোসোম নামক ক্ষুদ্র প্যাকেটের ওপর নির্ভর করে। এই মেলানোসোমের আকার ও বিন্যাস অনুযায়ী রং নির্ধারিত হয়। লম্বাটে মেলানোসোম সাধারণত কালো রঙের জন্য দায়ী আর গোল বা ছোট আকৃতিগুলো বাদামি রঙের আভা তৈরি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের মাদারস ডে কোয়ারি নামক স্থানে প্রায় ১৫ কোটি বছর আগের একটি ডিপ্লোডোকাস ডাইনোসরের চামড়া প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়। শুষ্ক আবহাওয়ায় ডাইনোসরটির শরীর শুকিয়ে যাওয়ার পর কাদা ও পলি দিয়ে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় এর চামড়ার সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো অক্ষত রয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে এই চামড়া পরীক্ষা করেছেন। গবেষণায় দুটি ভিন্ন ধরনের মেলানোসোমের সন্ধান পাওয়া গেছে। লম্বাটে বা ডিম্বাকৃতি মেলানোসোম আধুনিক পাখি বা সরীসৃপের ক্ষেত্রে কালো বা গাঢ় রঙের উপস্থিতি নির্দেশ করে। চ্যাপটা ও ডিস্ক আকৃতির মেলানোসোম দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়েছেন। এ ধরনের গঠন সাধারণত পাখির পালকে আলো প্রতিফলিত করতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই মেলানোসোম পুরো চামড়ায় একভাবে ছড়ানো ছিল না। ছোট ছোট গুচ্ছ আকারে ছিল। এর থেকে বোঝা যায়, ডাইনোসরটির শরীরে সুনির্দিষ্ট কোনো রং ছিল না; বরং তা ছিল ছোপ ছোপ দাগের মতো। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তরুণ ডিপ্লোডোকাসদের শরীরের এই বৈচিত্র্যময় রং বা ছোপ ছোপ দাগ তাদের পরিবেশে মিশে থাকতে বা ছদ্মবেশ ধারণ করতে সাহায্য করত। এটি শিকারি প্রাণীদের আক্রমণ থেকে তাদের সুরক্ষা দিত।

গবেষক টেস গ্যালাগার বলেন, ‘আগের গবেষণায় ডাইনোসরের চামড়ায় রঙের প্রমাণ না পাওয়ার কারণ হলো, মেলানোসোম খনিজ স্তরের নিচে লুকানো ছিল। আমরা চামড়াটিকে আড়াআড়িভাবে কেটে ভেতরে পরীক্ষা করার পরই এই কাঠামো দেখতে পেয়েছি। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, ডাইনোসরদের জগৎ ছিল আমাদের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি রঙিন ও বৈচিত্র্যময়।’ রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স সাময়িকীতে এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: আর্থ ডটকম