চাঁদে যাচ্ছে মানুষ, তবে...

আর্টেমিস–২ মিশনের জন্য তৈরি স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটফাইল ছবি: রয়টার্স

সবকিছু ঠিক থাকলে আর মাত্র কয়েক দিন পর চারজন নভোচারী একটি বিশাল রকেটে চড়ে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ১৯৭২ সালে নাসার অ্যাপোলো প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর এবারই প্রথম নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে মানুষ চাঁদের দিকে যাত্রা করতে যাচ্ছে। কারিগরি জটিলতার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে গেলেও, নাসা এখন ১ এপ্রিল (বাংলাদেশ সময় ২ এপ্রিল) এই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নভোচারীরা এবারের অভিযানে চাঁদে অবতরণ করবেন না। তার বদলে তাঁরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। এ মিশনে পৃথিবী থেকে ৪ লাখ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে পৌঁছাবেন তাঁরা, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মহাকাশযানের পর মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণ।

অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর নাসার মানববাহী চন্দ্রাভিযান বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় অ্যাপোলোর নভোচারীদের আনা পাথর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে চাঁদে পানি বা ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তা নেই। পানি ছাড়া চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস অসম্ভব ছিল। কিন্তু ভারতের পাঠানো চন্দ্রযান-১ চাঁদে পানির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে এ আগ্রহকে আবার পুনর্জীবিত করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর গর্তগুলোতে কোটি কোটি টন বরফ রয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানি থেকে হাইড্রোজেন তৈরি করে রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু পানিই নয়, চন্দ্রযান-১ হিলিয়াম-৩ নামক একটি আইসোটোপের বিশাল ভান্ডার খুঁজে পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিউশনের জ্বালানি হতে পারে।

চন্দ্রযান ১-এর সাফল্যের পর বিশ্বের অনেক দেশ নতুন করে চন্দ্রাভিযান শুরু করেছে। নাসা এ প্রোগ্রামের জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণের জন্য স্পেসএক্সের সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলারের চুক্তিও করেছে নাসা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া