মহাকাশ গবেষণায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

মহাকাশফাইল ছবি: নাসা

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মিশন পাঠানোর পর এবার মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এ পরিকল্পনার আওতায় সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ২০২৮ সালে নির্ধারিত এই মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে গ্রহাণুর গঠন ও সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে মহাকাশযান ব্যবহার করা হবে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এমবিআর এক্সপ্লোরার’। এটি ২০২৮ সালের মার্চে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে অবস্থিত সাতটি আলাদা গ্রহাণু পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত এই মহাকাশযান সঠিক গতিপথ অর্জনের জন্য ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র গ্রহ এবং ২০২৯ সালের বসন্তে পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে। প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে পৌঁছানোর পর এটি একে একে ১০২৫৩ ভেস্টারওয়াল্ড, ৬২৩ কাইমেরা ও ১৩২৯৪ রকলক্স গ্রহাণুগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গিয়ে এটি ৮৮০৫৫ ঘাফ, ২৩৮৭১ ওউশা ও ৫৯৯৮০ মোজা গ্রহাণুতে পৌঁছাবে।

এই মিশনের চূড়ান্ত গন্তব্য হলো প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীর মাঝখানে অবস্থিত ২৬৯ জাস্টটিয়া গ্রহাণু। পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে অবস্থিত এই গন্তব্যে ২০৩৪ সাল নাগাদ পৌঁছানো যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমবিআর এক্সপ্লোরার সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় সাত মাস ধরে গ্রহাণুকে প্রদক্ষিণ করবে। এরপর এটি একটি ল্যান্ডার নামানোর চেষ্টা করবে, যা মহাকাশ শিলার গঠন বিশ্লেষণ করবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই গ্রহাণু নেপচুনের বাইরে কাইপার বেল্টে গঠিত হয়েছিল। গ্রহগুলোর জন্মলগ্নে সৌরজগতে পানি ও অন্যান্য জৈবিক উপাদান কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এই গ্রহাণু।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ২০২০ সালে দেশটি একটি প্রোব সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল, যা ২০২১ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে। দেশের অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে সরিয়ে আনতে এবং বিকল্প প্রযুক্তি খাত গড়ে তুলতে এই মহাকাশ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান