১০ কোটি বছরের নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে উঠল ব্ল্যাকহোল
প্রায় ১০ কোটি বছরের নিস্তব্ধতা ভেঙে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বা অতিভুজাকৃতি কৃষ্ণগহ্বরের জেগে ওঠার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সেই ছবিতে দেখা গেছে, ব্ল্যাকহোলটি একটি মহাজাগতিক আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হচ্ছে। এই বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই প্রবল যে তা পুরো গ্যালাক্সির আকার বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সব গ্যালাক্সির কেন্দ্রে দানবীয় ব্ল্যাকহোল থাকলেও খুব কমই এমন চোখধাঁধানো সুপারহিটেড প্লাজমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মহাজাগতিক লাভার এই শিখা প্রায় ১০ লাখ আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত। এই শিখা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চেয়ে ১০ গুণ বেশি চওড়া। ব্ল্যাকহোলটির বিষয়ে বিজ্ঞানী শোভা কুমারী বলেন, এটি অনেকটা দীর্ঘ সময় শান্ত থাকার পর কোনো মহাজাগতিক আগ্নেয়গিরির আবার জেগে ওঠার মতো।
জে১০০৭+৩৫৪০ ব্ল্যাকহোলটি অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসে ঠাসা একটি বিশাল গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের ভেতরে অবস্থিত। সেখানে ব্ল্যাকহোলের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ও চারপাশের গ্যালাক্সির প্রচণ্ড চাপের মধ্যে এক নিরন্তর যুদ্ধ চলছে। মান্থলি নোটিশেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি সাময়িকীতে এই ব্ল্যাকহোলের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নেদারল্যান্ডসের লো ফ্রিকোয়েন্সি অ্যারে ও ভারতের জায়ান্ট মেট্রিওয়েভ রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ব্ল্যাকহোলের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্ল্যাকহোলের ভেতরে কোনো বস্তু পড়ার সময় ঘর্ষণের ফলে তা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এই শক্তি বেশ শক্তিশালী হয়। তখন ব্ল্যাকহোল মহাকাশে সুপারহিটেড প্লাজমার জেট বা শিখা নিক্ষেপ করতে শুরু করে। রেডিও চিত্রে দেখা গেছে, এই জেটগুলো চারপাশের গ্যাসের চাপে বেঁকে ও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর আগ্নেয়গিরির মতোই এই ব্ল্যাকহোলের অগ্ন্যুৎপাতের এক দীর্ঘ ও সহিংস ইতিহাস রয়েছে। বিজ্ঞানী শোভা কুমারী বলেন, পুরোনো স্তরের ভেতরে নতুন জেটের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে এটি একটি অনিয়মিত এজিএন বা এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন মহাজাগতিক সময়ের ব্যবধানে বারবার চালু ও বন্ধ হয়।
আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সি মিল্কিওয়েতে থাকা ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’ নামের ব্ল্যাকহোলটি বর্তমানে সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে একইভাবে জেগে উঠতে পারে ব্ল্যাকহোলটি। যদি এমন কোনো বিস্ফোরণ থেকে নির্গত শিখা সরাসরি পৃথিবীর দিকে আসে, তবে তা প্রাণের অস্তিত্ব বিলীন করার জন্য যথেষ্ট। তবে আগামী ২৪০ কোটি বছরের মধ্যে আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্যালাক্সি লার্জ ম্যাজেলানিক ক্লাউডের সঙ্গে মিল্কিওয়ের সংঘর্ষ হওয়ার আগে এমন ঘটার সম্ভাবনা নেই।
সূত্র: ডেইলি মেইল