৪০ কোটি বছরের পুরোনো উদ্ভিদ নিয়ে নতুন রহস্য
পৃথিবীতে টিকে থাকা প্রাচীনতম উদ্ভিদ গোষ্ঠীর অন্যতম হর্সটেইল সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, এই উদ্ভিদের ভেতর দিয়ে পানি প্রাকৃতিক পরিস্রাবণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। শুধু তা–ই নয়, উদ্ভিদটির ভেতরে থাকা আইসোটোপের বৈশিষ্ট্যও বেশ অস্বাভাবিক। নতুন এ তথ্য আদিম বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা ও প্রাচীন পানিচক্র সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, হর্সটেইল এমন এক বংশধারার অংশ যা একাধিকবার বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন সত্ত্বেও ৪০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগে এদের পূর্বপুরুষেরা প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হলেও বর্তমানের হর্সটেইল আকারে অনেক ছোট। আকৃতি ছোট হয়ে গেলেও এদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা পূর্বপুরুষদের মতোই অত্যন্ত শক্তিশালী রয়েছে। এদের ফাঁপা কাণ্ড বিভিন্ন জয়েন্টে বিভক্ত, যা ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে পানি পরিবহনে সহায়তা করে। এই কাঠামো গবেষণাগারে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।
অক্সিজেনের আইসোটোপ রাসায়নিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। আর তাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রিও গ্র্যান্ডে বেড়ে ওঠা স্মুথ হর্সটেইল নিয়ে গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদটির গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত অক্সিজেনের আইসোটোপের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেছেন। এ সময় দেখা যায়, হর্সটেইলের ওপরের অংশে পানিতে থাকা আইসোটোপের মান উল্কাপিণ্ডে পাওয়া আইসোটোপের মানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিবেশবিজ্ঞানে অক্সিজেনের আইসোটোপের উপস্থিতি বাষ্পীভবন হার, আর্দ্রতা এবং পানির উৎস বুঝতে সাহায্য করে। প্রস্বেদন বা ট্রান্সপিরেশন প্রক্রিয়ায় ভারী আইসোটোপের তুলনায় হালকা আইসোটোপের ওপর প্রভাব ভিন্ন হয়। তবে শুষ্ক পরিবেশে এই প্রক্রিয়াটি অনুকরণ করা বিজ্ঞানীদের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ছিল। হর্সটেইলের তথ্য থেকে দেখা যায়, এই উদ্ভিদের পানি থেকে ভারী আইসোটোপ আলাদা করে ফেলার এক অতুলনীয় ক্ষমতা রয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স ডেইলি