পৃথিবী কীভাবে অক্সিজেন ধরে রাখে

পৃথিবীছবি: রয়টার্স

পৃথিবী কেন প্রাণের উপযোগী আর অন্য পাথুরে গ্রহ কেন নয়, তা জানতে কয়েক দশক ধরেই চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে কোটি কোটি বছর ধরে অক্সিজেনের স্থিতিশীলতার পেছনে আসল রহস্য হতে পারে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র।

গবেষণায় তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর কেন্দ্রের গভীর স্তরে উৎপন্ন হওয়া এই অদৃশ্য রক্ষাকবচ কেবল দিকনির্ণয়েই নয়, বরং বায়ুমণ্ডলের প্রাণবায়ু ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কয়েক লাখ বছর আগে গঠন হওয়া শিলা বা পাথর পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যখন এই পাথর শীতল হয়, তখন তার ভেতরে পৃথিবীর তৎকালীন চৌম্বকক্ষেত্রের সূক্ষ্ম সংকেত আটকা পড়ে যায়। এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ফ্যানেরোজোয়িক যুগের চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তির পরিবর্তন বোঝা সম্ভব হয়েছে।

৫৪ কোটি বছর ধরে চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি এবং অক্সিজেনের মাত্রা একই ধারায় ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ৩৩ কোটি থেকে ২২ কোটি বছর আগে উভয় ক্ষেত্রেই একটি বড় ধরনের উত্থান লক্ষ করা গেছে। গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকেরা নিশ্চিত করেছেন, এই মিল কোনো দুর্ঘটনা বা কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং তাদের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, চৌম্বকক্ষেত্র অক্সিজেন বাড়াতে বা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শুধু তা–ই নয়, শক্তিশালী এই চৌম্বকক্ষেত্র বায়ুমণ্ডলকে সূর্যের ক্ষতিকর কণা বা সোলার উইন্ড থেকে রক্ষা করে। এই চৌম্বকক্ষেত্র না থাকলে সোলার উইন্ড বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলোকে মহাকাশে উড়িয়ে নিয়ে যেত, যার ফলে অক্সিজেন দ্রুত হ্রাস পেত। পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র মূলত এর কেন্দ্র ও ম্যান্টলের নড়াচড়ার ওপর নির্ভর করে। এই একই নড়াচড়া আবার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে, যা পরোক্ষভাবে অক্সিজেনের উৎপাদন ও ব্যবহারের ভারসাম্য রক্ষা করছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া