পৃথিবীতে স্তন্যপায়ী প্রজাতির সংখ্যা কত
পৃথিবীতে ঠিক কত প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী বাস করে? প্রশ্নটি শুনতে সহজ মনে হলেও এর উত্তর প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা যখনই কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস পুনর্মূল্যায়ন করেন অথবা প্রকৃতির গভীরে লুকিয়ে থাকা নতুন কোনো বৈচিত্র্য খুঁজে পান, তখনই এই তালিকায় পরিবর্তন আসে। বর্তমানে ম্যামাল ডাইভারসিটি তথ্যভান্ডারের দ্বিতীয় সংস্করণে বিশ্বজুড়ে ৬ হাজার ৭৫৯টি জীবিত ও সম্প্রতি বিলুপ্ত হওয়া স্তন্যপায়ী প্রজাতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
আমেরিকান সোসাইটি অব ম্যামালজিস্টস পরিচালিত এই তথ্যভান্ডার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন প্রাণীর বিস্তারিত ট্যাক্সোনমির তথ্য যুক্ত করা হয়। যখন গবেষকেরা বিদ্যমান কোনো প্রমাণ পর্যালোচনা করেন ও সিদ্ধান্ত নেন কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর গোষ্ঠী স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক নামের দাবিদার তখনই স্তন্যপায়ীর সংখ্যায় পরিবর্তন আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি প্রজাতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর সেটিকে কয়েকটি আলাদা প্রজাতিতে ভাগ করা হয়। আবার কখনো কখনো তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় দুটি আলাদা নামের প্রাণী আসলে একই বংশগতির অংশ। তখন তাদের মিলিয়ে একটি প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
১৯৮০ সাল থেকে স্তন্যপায়ীদের ১৪টি প্রধান তালিকা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, প্রতিবছর গড়ে ৬৫টি করে প্রজাতি এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। গবেষণার এই গতি বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রজাতির সংখ্যা হবে প্রায় ৭ হাজার ৭৯। ২০৫০ সালের মধ্যে তা ৮ হাজার ৩৭৬–এ পৌঁছাতে পারে। তবে নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ায় এই গতি কিছুটা কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন প্রজাতি সাধারণত বিষুবরেখা–সংলগ্ন অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং বিভিন্ন দূরবর্তী দ্বীপে বেশি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। মাদাগাস্কার, ফিলিপাইন, আন্দিজ পর্বতমালা, পূর্ব আফ্রিকা, হিমালয় ও ব্রাজিলের আটলান্টিক বনভূমি এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তবে বিশ্বের সব স্থানে গবেষণার কাজ সমানভাবে চলছে না। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকা, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে গবেষণা কম হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের অভাব ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের অভাবে অনেক প্রাণিগোষ্ঠী আজও অনাবিষ্কৃত থেকে যাচ্ছে।
আধুনিক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং ও ডিজিটাল অ্যানাটমি স্ক্যান এখন বিজ্ঞানীদের এমন সব পার্থক্য খুঁজে পেতে সাহায্য করছে, যা আগে খালি চোখে দেখা অসম্ভব ছিল। আধুনিক স্তন্যপায়ী শ্রেণিবিন্যাস এখন ইন্টিগ্রেটিভ ট্যাক্সোনমি বা সমন্বিত শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার ওপর নির্ভর করে। এটি কেবল শারীরিক গঠন নয়; বরং জেনেটিক তথ্য, আবাসস্থলের ব্যবহার ও আচরণের সম্মিলিত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রজাতির সীমানা নির্ধারণ করে।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বড় একটি অংশ এখনো সঠিক সংরক্ষণের আওতায় আসেনি। মোট স্বীকৃত প্রজাতির প্রায় ১৪ শতাংশের সংরক্ষণের ঝুঁকি এখনো নিরূপণ করা হয়নি। প্রায় ১১ শতাংশ প্রজাতির সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। প্রায় ২৫ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী সঠিক তথ্য ও মূল্যায়নের বাইরে রয়ে গেছে। নতুন এ গবেষণার তথ্য জার্নাল অব ম্যামালজিতে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম
https://www.earth.com/news/counting-mammals-a-living-index-to-protect-species-worldwide/