ইতিহাসের ১০টি খারাপতম উদ্ভাবন
বিজ্ঞানীদের অসংখ্য আবিষ্কার আমাদের জীবনকে করেছে সহজ ও গতিশীল। কিন্তু বিজ্ঞানীদের সব আবিষ্কারই যে আমাদের জীবনমান উন্নত করেছে, তা নয়। কিছু আবিষ্কার বেশ ত্রুটিপূর্ণ, কিছু আবার কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য। বিবিসি সায়েন্স ফোকাসে প্রকাশিত ইতিহাসের ১০টি খারাপতম আবিষ্কারের তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
১. প্যারাস্যুট কোট
ফরাসি দরজি ফ্রাঞ্জ রাইখেল্ট ১৯১২ সালে পাইলটদের জন্য এমন এক পোশাক তৈরি করেছিলেন, যা প্যারাস্যুট হিসেবে কাজ করবে। তিনি এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে নিজেই প্যারিসের আইফেল টাওয়ার থেকে এটি পরে লাফ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, পোশাকটির নকশার ত্রুটির কারণে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি নিচে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। আজকের উয়িং স্যুট বা ইজেক্টর সিটের পেছনে এমন সব দুঃসাহসী প্রচেষ্টার অবদান রয়েছে।
২. কফি পড
সহজে কফি তৈরির জন্য কফি পড বা ক্যাপসুল জনপ্রিয় হলেও এটি পরিবেশের জন্য এক বড় অভিশাপ। এর উদ্ভাবক জন সিলভান নিজেই আজ এই আবিষ্কারের জন্য অনুতপ্ত। প্রতিবছর বিশ্বে ৫ লাখ টনের বেশি কফি পডের বর্জ্য তৈরি হয়। মাটিতে মিশে যেতে এই প্লাস্টিক পডের সময় লাগে প্রায় ৫০০ বছর।
৩. সিনক্লেয়ার সি-৫ বৈদ্যুতিক ট্রাইসাইকেল
১৯৮৫ সালে স্যার ক্লাইভ সিনক্লেয়ার যখন এই বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানটি বাজারে আনেন, তখন এটি হাসির খোরাক হয়। এর উচ্চতা ছিল মাত্র ৮০ সেন্টিমিটার, ফলে বড় যানবাহনের ভিড়ে এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যাটারির ক্ষমতা কম থাকায় মাত্র ১৫ মাইল গতিতে ২০ মাইল যেতে পারত বৈদ্যুতিক ট্রাইসাইকেলটি। তবে বর্তমানের বৈদ্যুতিক যানবাহনের জনপ্রিয়তার যুগে এটি হয়তো সফল হতে পারত।
৪. পপ-আপ বিজ্ঞাপন
ইন্টারনেট ব্যবহারের আনন্দ মাটি করে দেওয়া এই পপ-আপ বিজ্ঞাপনের জনক ইথান জুকারম্যান। তিনি চেয়েছিলেন মূল ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কহীন বিজ্ঞাপনগুলোকে আলাদা বক্সে দেখাতে। পরে এই বিরক্তিকর আবিষ্কারের জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান যে তার উদ্দেশ্য ভালো থাকলেও ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ।
৫. হাইড্রোজেন এয়ারশিপ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার আরামদায়ক মাধ্যম ছিল জেপলিন এয়ারশিপ। কিন্তু ১৯৩৭ সালের হিন্ডেনবার্গ বিপর্যয় সব বদলে দেয়। বেলুনগুলোয় দাহ্য হাইড্রোজেন গ্যাস ভর্তি থাকায় বিস্ফোরণে ৩৬ জন প্রাণ হারান। বর্তমানে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এয়ারশিপ পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
৬. সেগা ড্রিমকাস্ট
১৯৯৯ সালে সেগা প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী গেমিং কনসোল ড্রিমকাস্ট বাজারে আনে। নকশা এবং অনলাইন গেম খেলার সুবিধা থাকলেও থার্ড-পার্টি গেমের অভাব এবং সনি প্লে-স্টেশন ২-এর দাপটে এটি বাজারে টিকতে পারেনি। এর ফলেই সেগা গেমিং হার্ডওয়্যার তৈরির ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ে।
৭. চুইংগাম
চুইংগাম ১৮৪৮ সাল থেকে প্রচলিত। এর প্রধান উপকরণ পলিভিনাইল অ্যাসিটেট আসলে একধরনের প্লাস্টিক। এটি জুতো বা রাস্তায় আটকে গেলে পরিষ্কার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে প্লাস্টিকমুক্ত চুইংগাম তৈরির চেষ্টা করছেন পরিবেশবাদীরা।
৮. বিটাম্যাক্স ভিডিও
সব খারাপ আবিষ্কারই গুণগত মানের জন্য ব্যর্থ হয় না। সনির বিটাম্যাক্স সিস্টেমের প্রতিদ্বন্দ্বী ভিএইচএসের চেয়ে অনেক উন্নতমানের ছবি দিলেও উচ্চ মূল্যের কারণে এটি জনপ্রিয়তা হারায়। সনি অবশেষে ২০১৬ সালে এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
৯. প্লাস্টিক ক্যারিয়ার ব্যাগ
১৯৬৫ সালে সুইডেনের প্রকৌশলী স্টেন গুস্তাফ থুলিন যখন প্লাস্টিক ব্যাগ আবিষ্কার করেন, তিনি ভেবেছিলেন এটি বারবার ব্যবহার করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি একবার ব্যবহার করা যাওয়ায় প্লাস্টিক দূষণের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের ওজন বেশি হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞেরা।
১০. অ্যাপল নিউটন মেসেজ প্যাড
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অ্যাপল হাতে লেখা বোঝার সক্ষমতাসম্পন্ন অ্যাপল নিউটন মেসেজ প্যাড নামের ট্যাবলেট কম্পিউটার বাজারে আনে। কিন্তু ট্যাবলেট কম্পিউটারটির হাতের লেখা শনাক্ত করার ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং দাম ছিল আকাশচুম্বী। ১৯৯৭ সালে স্টিভ জবস অ্যাপলে ফিরে আসার পর প্রথমেই নিউটন প্রকল্প বন্ধ করে দেন।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস