প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে আবিষ্কৃত ভাইরাসের ৯৯ শতাংশই বিজ্ঞানীদের অজানা

ভাইরাসের প্রতীকী ছবিরয়টার্স

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত ক্লারিওন-ক্লিপারটন ফ্র্যাকচার জোনে নতুন জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশাল এই জীববৈচিত্র্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পলিম্যাটালিক নোডিউলে ভরপুর এই গভীর সমুদ্রাঞ্চলে থাকা প্রায় ৯৯ শতাংশ ভাইরাসই বিজ্ঞানীদের অজানা। নেচার কমিউনিকেশন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে।

চীনের বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণায় চংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বাওয়েন হাউ ও লিলাং ঝাং এবং চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির বিজ্ঞানী ডং সুং অংশ নেন। ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এই অঞ্চলের মাইক্রোবিয়াল বা অণুজীবীয় বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করতে ভাইরোম নিয়ে গবেষণা করেন তাঁরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, পলিম্যাটালিক নোডিউলের তলদেশের পলিমাটিতে প্রাপ্ত ১১ হাজার ৭৪২টি স্বতন্ত্র ভাইরাসের প্রায় সবই নতুন। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে সংগৃহীত গভীর সমুদ্রের পলিমাটির নমুনা থেকে ডিএনএ এবং আরএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে। ভাইরাসগুলো মূলত ব্যাকটেরিয়া ও আর্কিয়ার মতো প্রোক্যারিওটিক অণুজীবকে সংক্রমিত করতে বিশেষ পারদর্শী। এই এককোষী অণুজীবগুলো কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার এবং ধাতু চক্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ জৈব-ভৌত-রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ভাইরাসগুলো তাদের পোষক অণুজীবের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ধাতব চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে থাকে। তবে গভীর সমুদ্রের তলদেশে খনিজ উত্তোলন শুরু হলে পলিম্যাটালিক নোডিউল ক্ষেত্র এবং এর সঙ্গে জড়িত এই সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে পড়তে পারে। খনিজ উত্তোলনের ফলে এই বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, বাণিজ্যিক খনিজ উত্তোলনের আগে এই গভীর সমুদ্রের ভাইরাস এবং অণুজীবের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে আরও বিশদ গবেষণা করতে হবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট