আকাশে দেখুন শারদীয় উল্কাপাতের দৃশ্য
মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অক্টোবর মাসটি সব সময়ই এক রোমাঞ্চকর সময়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মহাজাগতিক ধূলিকণা ও উল্কাপিণ্ডের প্রবেশ এবং তাদের দ্যুতিময় উপস্থিতি সব সময় বিজ্ঞান গবেষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মুগ্ধ করে। প্রতিবছরের মতো এবারও অক্টোবর মাসে আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে চমৎকার ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি। সন্ধ্যার আকাশে চোখ রাখলেই দেখবেন উল্কাপাতের দৃশ্য।
উত্তর গোলার্ধের আকাশপ্রেমীদের জন্য অক্টোবরের শুরুতেই এক চমৎকার মহাজাগতিক উপহার নিয়ে হাজির হয় বার্ষিক ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহ ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকে। শরতের রাতের আকাশে ধীরে ধীরে চলা উল্কাপিণ্ডগুলো দেখার দারুণ সুযোগ করে দেয়। বেশির ভাগ উল্কাবৃষ্টির ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হলেও ড্রাকোনিড উল্কা দেখার সেরা সময় হলো সন্ধ্যার ঠিক পরপরই।
ড্রাকোনিড উল্কাবৃষ্টির মূল উৎস হলো ‘ড্রাকো দ্য ড্রাগন’ নামের নক্ষত্রমণ্ডল। রাতের অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশের সর্বোচ্চ বিন্দুতে অবস্থান করে। নাসার মতে, এটি এমন এক আদর্শ উল্কাবৃষ্টি, যা দেখার জন্য খুব ভোরে ওঠার প্রয়োজন হয় না। অন্ধকার নামার পরপরই এটি উপভোগ করা যায়। চলতি বছরের বিশেষ দিক হলো আকাশে একফালি ক্ষীণ ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান করায় এবং ভোর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত না ওঠায় রাতের আকাশ বেশ অন্ধকার ছিল। চাঁদের আলোর অনুপস্থিতির কারণে ক্ষীণ আলোর উল্কার দাগগুলোও খুব সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অন্ধকার ও পরিষ্কার আকাশের নিচে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ থেকে ১০টি উল্কা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অন্যান্য উল্কাবৃষ্টির তুলনায় ড্রাকোনিড উল্কার গতি অনেকটাই ধীরগতির হয়ে থাকে এবং এগুলো আকাশে হালকা রেখা তৈরি করে। উত্তর গোলার্ধের দর্শনার্থীরা এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করার সুযোগ পেলেও দক্ষিণ গোলার্ধের তারা পর্যবেক্ষকেরা ড্রাকো অনেক নিচে থাকায় খুব কম উল্কা দেখেন।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি