আমাদের সৌরজগৎ কীভাবে তৈরি হয়েছে

সৌরজগৎছবি: ফ্রিপিক

তিন দশক ধরে সৌরজগৎ নিয়ে তৈরি কম্পিউটার মডেলগুলো উন্নত সিমুলেশনে রূপ নিয়েছে। এসব সিমুলেশনে গ্রহ, নক্ষত্র ও সৌরজগতের খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরা হলেও থেমে নেই বিজ্ঞানীরা। তাঁরা সৌরজগৎ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই গত মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘অরিজিনস ২০২৬’ সম্মেলনে আমাদের সৌরজগতের গঠনপ্রক্রিয়ার অভিনব সিমুলেশন উপস্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী নাদের হাগহিগিপুর। নতুন সিমুলেশনটি আগের যেকোনো মডেলের চেয়ে আলাদা বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিজ্ঞানী হাগহিগিপুরে বলেন, ‘আমাদের সৌরজগতের নিখুঁত সূচনা বিন্দু কোনটি ছিল বা প্রাথমিক প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্কে বিভিন্ন আকৃতির এলোমেলো বস্তুগুলো কীভাবে বিন্যস্ত ছিল, তা আজ পর্যন্ত কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না। তাই আমাদের একদম শুরুতে ফিরে যেতে হয়েছে এবং শূন্য থেকে শুরু করেতে হয়েছে। সৌরজগৎ সম্পর্কে আমরা আগে থেকে যা কিছু জানি, সেগুলোকে প্রাধান্য না দিয়েই সিমুলেশন মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর আসলে আমাদের সৌরজগতের বিবর্তনেরই একটি স্বাভাবিক পরিণতি। আমরা দেখেছি যে শুক্র গ্রহ প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আবির্ভূত হয় এবং এর কক্ষপথ বজায় রাখে। কখনো কখনো এটি নক্ষত্রগুলোর বাসযোগ্য অঞ্চলের ভেতরে থাকে, আবার কখনো বা সামান্য বাইরে চলে যায়।’

হাগহিগিপুরের তথ্যমতে, ‘গ্রহ সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট একটি পন্থায় প্রায় ৩০ বছর কাজ করার পর আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে বুঝতে পেরেছি, আমাদের অতীতের মডেলিংয়ের বহু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং একে আর সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বাসযোগ্য গ্রহ সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে অনুকূল এবং কার্যকর পরিবেশ হলো এমন একটি প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক, যেখানে কঠিন পদার্থের বিন্যাস অসমান থাকে। এই পরিবেশটি কোনো নির্দিষ্ট অনুমান ছাড়াই একটি নক্ষত্র নীহারিকার বিবর্তন থেকে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে। আমরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যানেটেসিমাল এবং গ্রহীয় ভ্রূণের বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে গ্রহ সৃষ্টির অন্তিম ধাপের এক হাজারের বেশি সিমুলেশন সম্পন্ন করেছি।

সৌরজগতের মতো নক্ষত্রগুলোর বাসযোগ্য অঞ্চলে পৃথিবী আকারের গ্রহগুলোর (ছোট সুপার-আর্থসহ) সাধারণ উপস্থিতির কথা বিবেচনা করলে, পৃথিবীর মতো প্রাণের অস্তিত্ব মহাবিশ্বে থাকার সম্ভাবনা যৌক্তিক বলেও দাবি করেছেন হাগহিগিপুর। তাঁর মতে, ‘আমাদের পৃথিবী যে একটি আকস্মিক ব্যতিক্রমী গ্রহ, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

সূত্র: ফিজিস ডটঅর্গ