আজ ৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সুডোকু দিবস

প্রথম আলোতে প্রতিদিন প্রকাশিত সুডোকু মেলাচ্ছেন একজন পাঠকছবি: প্রথম আলো

স্মার্টফোনের পর্দায় অন্তহীন স্ক্রলিংয়ের যুগে নতুন এক নেশায় বুঁদ হয়ে আছে তরুণ প্রজন্ম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন থেকে দূরে থাকতে তাঁরা বেছে নিচ্ছে মস্তিষ্কের খেলা (ব্রেন গেম)। আজ ৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সুডোকু দিবস।

৯ বাই ৯ ঘরের সুডোকু ছকে প্রতিটি সারিতে ১ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা বসাতে হয়। কোনো সংখ্যা পুনরাবৃত্তি ছাড়াই নিয়ম মেনে ঘর পূরণ করতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মায়াজাল কাটাতে এই ‘লজিক পাজল’ এখন তরুণদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ৯ সেপ্টেম্বর ৯ x ৯ আকারে লেখা হয় বলে দিনটি সুডোকু দিবস।

মনস্তত্ত্ববিদেরা জানান, সুডোকুর মূল আকর্ষণ হলো এর নির্দিষ্ট সমাপ্তি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্তহীন পুরস্কারের লোভ থেকে এটি একেবারেই আলাদা। এডিএইচডি সমস্যায় ভোগা অনেক রোগীকে সুডোকু খেলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডুমস্ক্রলিংয়ের মতো এখানে কোনো অফুরন্ত ক্লান্তি নেই, নির্দিষ্ট পরিশ্রমে সফল সমাপ্তি রয়েছে।

চলার পথে মেট্রোরেল কিংবা ক্লাসের ফাঁকে ক্ল্যাসিক সুডোকু এবং এর নানা বৈচিত্র্য নিয়ে খেলা হয়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অডিওলজি অ্যান্ড স্পিচ ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতিমা আলম বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে শিশুদের শৈশব বন্দী হয়ে পড়েছে পর্দার ভেতরে। ডিজিটাল যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তির ক্ষতি করছে। এই সংকট উত্তরণে সুডোকু হতে পারে এক মোক্ষম হাতিয়ার। এটি কেবল একটি সাধারণ সংখ্যা মেলানোর খেলা নয়, স্নায়বিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। নিউরোসায়েন্সের দৃষ্টিতে সুডোকু মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব বা ললাট অঞ্চলকে সক্রিয় করে তোলে। মস্তিষ্কের এই অংশ পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের মতো উচ্চতর মানসিক কাজ পরিচালনা করে।

প্রতিটি ঘর পূরণের সময় শিশুদের মস্তিষ্ককে যৌক্তিক বিন্যাস বা লজিক্যাল প্যাটার্ন খুঁজতে হয়। এর ফলে নিউরনগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়। নিয়মিত সুডোকু চর্চা করলে মস্তিষ্কের নমনীয়তা (কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি) বৃদ্ধি পায়। একসঙ্গে একাধিক সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার ক্ষমতা তৈরি হয়।

শিশুদের জীবনে সুডোকুর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ফাতিমা বলেন, প্রথমত, এটি তাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সংখ্যা নিয়ে খেলার সময় সামান্য অমনোযোগিতা পুরো সমাধান বদলে দেয়। ফলে শিশুরা ধৈর্য ধরতে শেখে এবং নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, এটি কার্যকর স্মৃতিশক্তি বা ওয়ার্কিং মেমোরি উন্নত করে। কোন সংখ্যাটি কোথায় বসবে, তা মনে রাখার প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। তৃতীয়ত, সুডোকু শিশুদের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে জয়ের আনন্দ এনে দেয়। জটিল একটি পাজল সমাধান করার পর মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। গণভীতি দূর করতেও এই লজিক গেম দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

সুডোকু খেললে সংখ্যার প্রতি একধরনের ভীতি শিশুদের মন থেকে দূর হয়ে যায়। ডিজিটাল পর্দার আসক্তি থেকে শিশুদের দূরে রাখতে সুডোকু অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিনোদনের পাশাপাশি মস্তিষ্কের নিখাদ ব্যায়াম নিশ্চিত করে। এই খেলা শিশুদের বুদ্ধিদীপ্ত ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। শৈশব থেকেই সুডোকুর অভ্যাস শিশুদের একটি তীক্ষ্ণ ও পরিপক্ব মানসিক কাঠামো উপহার দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস