পঞ্চম মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার

অধরা ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ করছেন বিজ্ঞানীরাফাইল ছবি: নাসা

মহাবিশ্বের দূরদূরান্তে ছড়িয়ে থাকা অদৃশ্য শক্তির রহস্য মানুষকে চিরকাল বিমোহিত করে। আমাদের চেনা জগতের বাইরে কোনো অজানা মাত্রা লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে অনুসন্ধানের শেষ নেই। সাধারণ চোখে যা দেখা যায় না, তা-ই মহাবিশ্বের বড় অংশজুড়ে অবস্থান করছে। গ্যালাক্সিগুলোকে আটকে রাখা এই রহস্যময় উপাদানের নাম ডার্ক ম্যাটার। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ডার্ক ম্যাটার নামের অদৃশ্য এই উপাদান আমাদের চেনা চার মাত্রার সীমানা পেরিয়ে পঞ্চম মাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। নতুন এই তথ্য ডার্ক ম্যাটার নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধারণার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অতিরিক্ত মাত্রার জ্যামিতিক গঠনের কারণে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলোর মধ্যে একধরনের অনুনাদ বা রেজোন্যান্স তৈরি হয়। এই গঠন কণাগুলোকে এক সুনির্দিষ্ট বিন্যাসে সাজাতে সাহায্য করে। আমাদের দৃশ্যমান বিশ্ব সাধারণ চার মাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখানে তিনটি স্থানিক মাত্রা এবং একটি সময়ের মাত্রা রয়েছে। ডার্ক ম্যাটার এই চার মাত্রার বাইরে খুব ক্ষুদ্র ও গুটানো একটি অতিরিক্ত স্থানিক মাত্রায় মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তেইগিউ লি বলেন, ‘আমাদের মডেলে, আমরা নিজেদেরসহ যেসব কণা পর্যবেক্ষণ করতে পারি, সেগুলো চার মাত্রিক স্থানে অবস্থান করে। এর মধ্যে একটি সময় এবং তিনটি স্থানিক মাত্রা রয়েছে। তবে ডার্ক ম্যাটার চার মাত্রার পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি স্থানিক মাত্রায় মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে। এই মাত্রাটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং গুটানো অবস্থায় রয়েছে।’

বিজ্ঞানীদের মতে, দৃশ্যমান সাধারণ পদার্থ মহাবিশ্বের মোট ভরের মাত্র ৫ শতাংশ গঠন করে। বাকি অংশের মধ্যে ডার্ক ম্যাটার ২৭ শতাংশ এবং ডার্ক এনার্জি ৬৮ শতাংশ দখল করে আছে। গ্যালাক্সির গঠন ও বিবর্তনে ডার্ক ম্যাটার এক অদৃশ্য আঠার মতো কাজ করে।

নতুন এই মডেলে ডার্ক ম্যাটার কীভাবে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গবেষণার সহলেখক শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ-দাই সাই বলেন, ‘আমাদের মডেলে ডার্ক ম্যাটার এখনো সাধারণ পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। তবে এটি “ডার্ক ফোটন” নামের একটি কণার মাধ্যমে খুব মৃদুভাবে ঘটে। ডার্ক ম্যাটারের অনুনাদ একটি শক্তিশালী ধারণা হিসেবে আগে থেকেই পরিচিত। আদি মহাবিশ্বে কীভাবে ডার্ক ম্যাটার তৈরি হয়েছিল এবং বর্তমানে আমরা কীভাবে এটি খুঁজছি, সেই ধারণাকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এর রয়েছে।’

বিজ্ঞানী সাই আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এটি আদি মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটারের মিথস্ক্রিয়াকে অনেক বেশি কার্যকর করে তোলে। এই বুস্ট বা শক্তির কারণে সাধারণ পদার্থের সঙ্গে সংযোগ অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সঠিক পরিমাণে ডার্ক ম্যাটার তৈরি হতে পেরেছে।’

গবেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থে শনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে ইলেকট্রনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মেপে এই কণার উপস্থিতি খোঁজা সম্ভব। অন্যদিকে কণা ত্বরণযন্ত্রের মাধ্যমে ‘ডার্ক ফোটন’ তৈরি করে শক্তির ঘাটতি পরীক্ষা করা যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট ভরের বিন্যাসে এই সংকেত পাওয়া গেলে তা পঞ্চম মাত্রার পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল