সূর্যপৃষ্ঠে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও সৌরঝড়ের পূর্বাভাস জানতে নাসার উদ্যোগ
পৃথিবী এখন মহাকাশ গবেষণার এমন এক যুগে পদার্পণ করেছে, যেখানে একটি শক্তিশালী সৌরঝড় মুহূর্তেই আমাদের আধুনিক সভ্যতাকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর আমাদের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এই মহাজাগতিক বিপদ মোকাবিলায় নাসার বিজ্ঞানীরা এবার তৈরি করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) নতুন সিস্টেম। এই সিস্টেমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সূর্য এআই’। এটি সূর্যপৃষ্ঠে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে পারে।
প্রচলিত ব্যবস্থায় সাধারণত সৌরঝড় শুরু হওয়ার পর সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের বিজ্ঞানী সুজিত রায় ও তাঁর সহকর্মীরা সৌরঝড় বা সোলার ফ্লেয়ার শুরু হওয়ার আগে সূর্যের বায়ুমণ্ডল ও চুম্বকীয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তন ঘটার তথ্য বের করেছেন। সূর্য এআই সিস্টেমটি সেই সূক্ষ্ম সংকেত পড়তে শিখেছে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এখন অনেক আগে থেকেই জানতে পারবেন কখন সূর্যের ভেতরে শক্তি পুনর্গঠিত হচ্ছে ও বড় কোনো বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছে।
২০১০ সাল থেকে নাসার সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি সূর্যের যে লাখ লাখ ছবি সংগ্রহ করেছে, তা দিয়েই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে সূর্য এআইকে। এতে ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন স্তরের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা সূর্যের উত্তপ্ত গ্যাস এবং চুম্বকীয় ক্ষেত্রের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে। এআই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে একটি ফাউন্ডেশন মডেল হিসেবে। এর প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ অ্যাডজাস্টেবল সেটিংস বা প্যারামিটার রয়েছে। এটি কেবল তথ্য মুখস্থ করে না, বরং এক ঘণ্টার ব্যবধানে নেওয়া দুটি ছবির পরিবর্তন দেখে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার চিত্র কেমন হতে পারে, তা নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারে।
সৌরঝড় যখন পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয়, তখন তা মহাকাশে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস যন্ত্র ধ্বংস করতে পারে এবং উচ্চ বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে। এই বিদ্যুৎ তরঙ্গ আমাদের দীর্ঘ পাওয়ার লাইনগুলোতে প্রবাহিত হয়ে ট্রান্সফরমার নষ্ট করে দিতে পারে। একটি নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাসের ব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং স্যাটেলাইট অপারেটররা সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে, ফলে কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
যদিও গবেষকেরা কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন। অনেক সময় সূর্যের অত্যন্ত সূক্ষ্ম চুম্বকীয় সীমানা এআইয়ের কাছে ঝাপসা মনে হতে পারে। বিজ্ঞানী সুজিত রায় বলেন, সূর্যের গতিশীল প্রকৃতি ও হাই রেজোল্যুশন ছবির তথ্য কম্পিউটারের মেমরিতে প্রসেস করা ছিল আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। নাসা এআই সিস্টেমের কোড এবং মডেল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম