মহাবিশ্ব বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে, কারণ কী

মহাবিশ্বের ফাইল ছবিছবি: রয়টার্স

মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল। তবে মহাবিশ্ব তার নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএফ নোয়ারল্যাব ও স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তাঁরা মহাবিশ্বের প্রসারণের হার নির্ণয়ের জন্য এযাবৎকালের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাবিশ্ব কেন দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। আর তাই বিজ্ঞানীদের নতুন এই আবিষ্কার মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বর্তমান ধারণাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞান সাময়িকী অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসে প্রকাশিত হয়েছে।

মহাবিশ্ব কত দ্রুত বড় হচ্ছে, তা পরিমাপের জন্য বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। প্রথম পদ্ধতিতে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা নক্ষত্র ও ছায়াপথগুলোর গতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে বর্তমানে প্রসারণের হার কেমন হওয়া উচিত, তার একটি পূর্বাভাস তৈরি করেছেন তাঁরা। তাত্ত্বিকভাবে দুটি পদ্ধতির ফলাফল এক হওয়া উচিত হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। আদি মহাবিশ্বের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা পূর্বাভাস অনুযায়ী, মহাবিশ্ব প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬৭ বা ৬৮ কিলোমিটার বেগে প্রসারিত হওয়ার কথা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রসারণের এই হার আসলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার।

যদিও সংখ্যার এই পার্থক্য খুব সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু পরিসংখ্যানগতভাবে এটি একটি বিশাল গরমিল। বিজ্ঞানীদের কাছে এই অমীমাংসিত সমস্যাটি হাবল টেনশন নামে পরিচিত। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএফ নোয়ারল্যাব ও স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের ৪০ গবেষক সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন। গবেষণা চলাকালে দ্য লোকাল ডিস্ট্যান্স নেটওয়ার্ক নামক একটি মডেল ব্যবহার করে রেড জায়ান্ট স্টার, সুপারনোভা বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন ছায়াপথের তথ্যও বিশ্লেষণ করেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, একক কোনো পরিমাপগত ভুলের কারণে এই পার্থক্য তৈরি হয়নি। এই কাজ হাবল টেনশনের সেসব ব্যাখ্যাকে নাকচ করে দেয়, যা কেবল স্থানীয় দূরত্ব পরিমাপের একটি ভুল হিসেবে একে বিবেচনা করত। যদি এই টেনশন বা পার্থক্যটি বাস্তব হয়, তবে তা স্ট্যান্ডার্ড কসমোলজিক্যাল মডেলের বাইরে নতুন পদার্থবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। গবেষণায় যুক্ত ডার্ক এনার্জি সার্ভের বিজ্ঞানী ক্যাথি রোমার বলেন, ‘মহাবিশ্ব কেবল প্রসারিতই হচ্ছে না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রসারণের গতি বেড়েই চলেছে। বিগ ব্যাংয়ের পর ১৪ বিলিয়ন বছর পার হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে অভিকর্ষের প্রভাবে এই গতি হয়তো ধীরে ধীরে কমে আসবে। কিন্তু ঘটছে তার উল্টো।’

মহাবিশ্বের এই অস্বাভাবিক প্রসারণের পেছনের অন্যতম কারণ হিসেব ডার্ক এনার্জিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, ডার্ক এনার্জি এমন এক রহস্যময় শক্তি, যা মহাবিশ্বের সবকিছুকে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, ‘গবেষণার মডেলে হয়তো ডার্ক এনার্জির প্রভাব সঠিকভাবে হিসাব করা হয়নি অথবা মহাজগতে এমন কোনো নতুন কণা বা মহাকর্ষীয় পরিবর্তন আছে, যা আমাদের এখনো অজানা।’

সূত্র: ডেইলি মেইল