নোবেলিয়াম নিয়ে অমীমাংসিত লড়াই

প্রতীকী ছবিপেক্সেলস

পর্যায় সারণীর ১০২ নম্বর মৌলটির নাম নোবেলিয়াম। ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের নামানুসারে পরিচিত মৌলটি নিয়ে বেশ নাটকীয়তা আর বিতর্ক রয়েছে। পৃথিবীর বুকে প্রাকৃতিকভাবে মৌলটির কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি এই তেজস্ক্রিয় ধাতুটি নিয়ে একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের মধ্যে চলেছে দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধ।

নোবেলিয়াম একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ধাতু। এখন পর্যন্ত গবেষকেরা এই মৌলের মাত্র অল্প কয়েকটি পরমাণু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এর সবচেয়ে স্থিতিশীল আইসোটোপের (নোবেলিয়াম-২৫৯) আয়ু মাত্র ৫৮ মিনিট। অর্থাৎ এক ঘণ্টার মধ্যেই এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। এর কোনো জৈবিক ভূমিকা নেই এবং তেজস্ক্রিয়তার কারণে এটি অত্যন্ত বিষাক্ত।    

১৯৫০–এর দশকে এই মৌলটির আবিষ্কার নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ১৯৫৬ সালে মস্কোর ইনস্টিটিউট অব অ্যাটমিক এনার্জির জর্জি ফ্লেরোভের দল প্রথম এটি তৈরির দাবি করলেও তারা তখন সেটি প্রকাশ করেনি। ১৯৫৭ সালে স্টকহোমের নোবেল ইনস্টিটিউট অব ফিজিকস মৌলটি তৈরির দাবি করে এবং আলফ্রেড নোবেলের সম্মানে নাম দেয় নোবেলিয়াম। ১৯৫৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবার্ট ঘিয়োরসো এবং তাঁর দল দাবি করেন, স্টকহোমের নোবেল ইনস্টিটিউট অব ফিজিকসের দাবি ভুল, আসলে তাঁরাই মৌলটি প্রথম তৈরি করেছেন।  

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, নোবেলিয়াম তার প্রতিবেশী মৌলগুলোর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। এটি রাসায়নিকভাবে ক্যালসিয়াম বা বেরিয়ামের মতো ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলোর মতো আচরণ করে। সম্প্রতি একটি বড় অণুর অংশ হিসেবে নোবেলিয়াম শনাক্ত করা হয়েছে, যা রসায়ন বিজ্ঞানের জন্য এক নতুন মাইলফলক।

সূত্র: ব্রিটানিকা