সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কি বটমুক্ত করা সম্ভব
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্যাম মন্তব্য, ভুয়া সম্পৃক্ততা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্টের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে প্রকৃত ব্যবহারকারী ও কৃত্রিম অ্যাকাউন্ট আলাদা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এ জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই বটমুক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করছে। তাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি অনলাইন পরিসর গড়ে তোলা, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে তাঁরা প্রকৃত মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ করছেন। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বটের উপস্থিতি কমাতে ব্যবহারকারীর মানব পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাসহ একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আদৌ চালু হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফোর্বস জানিয়েছে, এই উদ্যোগে কাজ করছে দশজনেরও কম সদস্যের একটি ছোট দল। আপাতত বড় পরিসরের আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গড়ে তোলার বদলে অনলাইনে দ্রুত বাড়তে থাকা বট ও স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্টের সমস্যা কীভাবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআই বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মধ্যে অ্যাপলের ফেস আইডি কিংবা ‘ওয়ার্ল্ড অরব’ নামের একটি যন্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এই যন্ত্র চোখের মণি স্ক্যান করে ব্যবহারকারীর জন্য একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করবে। ওয়ার্ল্ড অরব পরিচালনা করে ‘টুলস ফর হিউম্যানিটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান। এ ধরনের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা বটের জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। তবে একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বটের উপস্থিতি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর প্রভাব আরও চোখে পড়ছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্বয়ংক্রিয় জবাব ও স্প্যাম অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এ নিয়ে স্যাম অল্টম্যান প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অনলাইনের অনেক আলোচনা আর স্বাভাবিক মনে হয় না। এর আগে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জও জানিয়েছিল, ওপেনএআই একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে কাজ করছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে সেই তথ্যেরই আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা ছবি বা ভিডিও তৈরির মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে ওপেনএআই একই পরিসরে অবস্থান নিতে পারে।
এই উদ্যোগ নিয়ে ওপেনএআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। আপাতত এটিকে একটি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বটমুক্ত সামাজিক যোগাযোগের পরিবেশ গড়া সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্র: টেক্লুসিভ