নতুন এআই মডেল আনল মেটা, যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে
‘মিউজ স্পার্ক’ নামের নতুন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মডেল উন্মুক্ত করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ‘মিউজ’ এআই সিরিজের আওতায় মডেলটি তৈরি করেছে মেটার সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস। এআই মডেলটির উন্মোচনের পর এক ফেসবুক বার্তায় জাকারবার্গ জানিয়েছেন, মেটা এআইয়ের হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করছে মিউজ স্পার্ক। ব্যবহারকারীরা মেটা ডট এআই ওয়েবসাইট ও মেটা এআই অ্যাপের মাধ্যমে মডেলটি ব্যবহার করতে পারবেন।
নতুন মডেলটি মূলত দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। আর তাই মডেলটি কাজে লাগিয়ে সহজেই ছবি বা ভিডিওর পটভূমি বোঝা, স্বাস্থ্যসেবা, কেনাকাটা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধেয় (কনটেন্ট) তৈরি করা যাবে। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, ‘মিউজ স্পার্ক আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রথম ধাপ এবং এআই নিয়ে আমাদের নতুন প্রচেষ্টার প্রথম ফসল।’
মিউজ সিরিজে পর্যায়ক্রমে নতুন ওপেন সোর্স মডেল যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মেটা। শুধু তা–ই নয়, ভবিষ্যতে শুধু প্রশ্নোত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন ধরনের এআই এজেন্ট তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের জুলাইয়ে ‘ব্যক্তিগত সুপারইন্টেলিজেন্স’ ধারণা সামনে আনেন জাকারবার্গ। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি এআই ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে ব্যক্তিকে তাঁর নিজস্ব লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মেটায় ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক, গুগলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০ জনের বেশি গবেষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর তাই নতুন এআই মডেল উন্মুক্ত করার বিষয়টিকে গত বছরের উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের প্রথম দৃশ্যমান ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত বছর এআই উন্নয়নে মেটা প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ২০২৬ সালে এই ব্যয় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এআই খাতে মেটা বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলেও কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারকারী অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সাফল্য পায়নি। তবে জাকারবার্গের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁর মতে, সুপারইন্টেলিজেন্সকে সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না রেখে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়াই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মূল পথ। ব্যক্তিকে ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়েই এআইয়ের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মেটার তৈরি ‘লামা’ এআই মডেল বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। নতুন মিউজ স্পার্ক মডেল সেই চিত্র বদলাতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, ক্লড ওপোস ৪.৬ ম্যাক্স, জেমিনাই ৩.১ প্রো হাই এবং জিপিটি ৫.৪ এক্স হাইয়ের মতো শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর তুলনায় মিউজ স্পার্কের সক্ষমতা সম্পর্কে মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে। কিছু পরীক্ষায় এটি অন্য মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে, আবার কিছু পরীক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে।
সূত্র: ম্যাশেবল