অনলাইনে নেতিবাচক আধেয় বেশি সার্চ করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে

অনলাইনে নিয়মিত নেতিবাচক আধেয় দেখেন অনেকেইছবি: পেক্সেলস

অনলাইনে নেতিবাচক আধেয় বা কনটেন্ট নিয়মিত ব্রাউজ বা সার্চ করলে মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ারে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, যাঁরা নিয়মিত অনলাইনে হতাশাবাদী, আক্রমণাত্মক বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট দেখেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে।

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে অনলাইনে সময় ব্যয়ের পরিমাণকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা হয়নি। ব্যবহারকারীরা কী ধরনের কনটেন্টে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, নেতিবাচক কনটেন্টের সঙ্গে ঘন ঘন সম্পৃক্ততা একধরনের ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি করে, যা ধীরে ধীরে মানসিক অস্বস্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে ব্যবহারকারীরা এমন এক চক্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েন, যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায়। অর্থাৎ অনলাইন পরিবেশ ব্যবহারকারীর মানসিক সুস্থতায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণার ফলাফল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে বিভাজনমূলক বা উত্তেজনামূলক কনটেন্ট বেশি প্রচার পেলে তা ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে গবেষকেরা কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে জোরদার, অ্যালগরিদমের নকশায় পরিবর্তন এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁদের মতে, প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিগত পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও সচেতনভাবে কনটেন্ট বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া