নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের অঙ্গীকার নিয়ে বিআইজিএফের গোলটেবিল আলোচনা

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারাসংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স-সংক্রান্ত অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম (বিআইজিএফ) আয়োজিত ‘দলীয় ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স সম্পর্কিত অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ আলোচনায় বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, নাগরিক অধিকার, নির্বাচনোত্তর নীতিগত অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিআইজিএফ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইজিএফের ভাইস চেয়ারপারসন মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। বিআইজিএফের নির্বাহী সদস্য শারমিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় ডিজিটাল অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি, সাশ্রয়ী ও অর্থবহ ইন্টারনেট সংযোগ, তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের অখণ্ডতা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিগত সরকারগুলোর বরাদ্দ ও ব্যয়ের ওপর অডিট পরিচালনা করা হবে এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, আইন, নাকি প্রতিষ্ঠান আগে—কোনটি অগ্রাধিকার পাবে, তা স্পষ্ট করা দরকার। তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সেগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রকিবুল হক বলেন, ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের একটি বড় অংশ হলো ডেটা গভর্ন্যান্স। ডেটার মালিকানা কার—এ বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। এক দেশ থেকে অন্য দেশে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কতটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নীতিমালা ও মালিকানার কাঠামো পরিষ্কার থাকা উচিত।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এ তহবিল সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথায় এবং কীভাবে তা ব্যয় হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইজিএফের চেয়ারপারসন আমিনুল হাকিম বলেন, উপযুক্ত নীতিমালার অভাবে ফেসবুক, গুগল ও ইউটিউবের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বাংলাদেশের মতো একটি দেশের অন্তত ৫ থেকে ১০টি সাবমেরিন কেব্‌লের প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়ে বর্তমান ও আগামী সরকারকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে।