স্মার্টফোনের আসক্তি কমাতে অভিভাবকদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত
শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। আর তাই সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএস মট চিলড্রেনস হাসপাতালের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা ৮৩ শতাংশ অভিভাবক মনে করেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে তাঁদের সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১০ বছরের এক কন্যাশিশু রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক লেখিকা ও বক্তা ক্যাথরিন প্রাইসের। ফলে তিনি শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তির বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই পর্যবেক্ষেণ করার সুযোগ পেয়েছেন। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন প্রাইস জানান, পর্দার সামনে কাটানো সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এতে তাদের সামাজিক দক্ষতা, বাস্তব সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ কমছে।
শিশুদের স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে জোনাথন হেইটের সঙ্গে যৌথভাবে একটি বই লিখেছেন ক্যাথরিন প্রাইস। ‘দ্য অ্যামেজিং জেনারেশন: ইয়োর গাইড টু ফান অ্যান্ড ফ্রিডম ইন আ স্ক্রিন-ফিল্ড ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের বইটিতে তিনি শিশুদের ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিভাবকদের উদ্দেশে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমাতে অভিভাবকদের আগে নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। অভিভাবকেরা যদি নিজেরা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের ব্যবহার সীমিত করেন, তাহলে শিশুরাও সেটিকে সহজে গ্রহণ করবে।
শিশুকে আলাদা স্মার্টফোন দেওয়ার বদলে পারিবারিক ফোন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ক্যাথরিন প্রাইস। তাঁর মতে, বাসায় একটি ল্যান্ডলাইন ফোন থাকলে শিশুরা বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। এতে তাদের যোগাযোগদক্ষতা বাড়ে। এ ছাড়া স্কুল শেষে বা বাইরে যাওয়ার সময় ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ ফ্লিপ ফোন দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন ব্যবহার করতে শিখবে এবং অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমবে।
সন্তানদের নিজের টাকায় স্মার্টফোন কেনার শর্ত আরোপ করার পক্ষে ক্যাথরিন প্রাইস। এর ফলে শিশুরা অল্প বয়সেই অর্থের মূল্য বুঝতে শিখবে এবং ভবিষ্যতে আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস