ঘরে বসে অফিসের কাজ করা ভালো না খারাপ

ঘরে বসে অফিসের কাজ করেন অনেকেইফাইল ছবি: প্রথম আলো

কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বাসা থেকে কাজ বা রিমোট ওয়ার্ক। অফিসে যাতায়াতের ঝামেলা কমানো এবং কাজের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বাড়ানোর কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি স্থায়ী রূপ পেয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘরে বসে অফিসের কাজ করার নেতিবাচক দিক রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে থেকে কাজ করলে মানসিক চাপ ও মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তি বাড়তে পারে। আর ঘরে একা বসবাসকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির পর যেসব পেশায় দূর থেকে কাজের সুযোগ বেড়েছে, সেসব পেশার কর্মীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার হারও বেড়েছে। কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হয়, এমন কর্মীদের তুলনায় এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। গবেষণার জন্য ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বৃহৎ জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। গবেষণায় মূলত ঘরে বসে অফিসের কাজ করা ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা এবং স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, মহামারির পরবর্তী সময়ে ঘরে বসে অফিসের কাজ করা কর্মীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক অস্বস্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একা বসবাসকারী কর্মীদের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাঁদের মানসিক অস্বস্তি বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা আরও দেখেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হার বাড়লেও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহারে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে বিষয়টি কেবল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সামগ্রিক প্রবণতার পরিবর্তনের কারণে ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মপরিবেশ ও সামাজিক যোগাযোগের পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গবেষণাকালে মানসিক অস্বস্তি বৃদ্ধির সামগ্রিক প্রবণতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের পেছনে ঘরে বসে অফিসের কাজ করার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে তাঁরা এটিও উল্লেখ করেছেন যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পেছনে এটি একমাত্র কারণ নয়। গবেষকদের মতে, কর্মস্থল শুধু কাজের জায়গা নয়, সামাজিক যোগাযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা, মতবিনিময় কিংবা দৈনন্দিন ছোট ছোট সামাজিক মিথস্ক্রিয়া মানুষের মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বাসা থেকে কাজের ক্ষেত্রে এসব যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। আর তাই সহকর্মীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ কিংবা কর্মস্থলের বাইরের সাধারণ সামাজিক যোগাযোগও মানুষের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এমনকি প্রতিদিনের ছোটখাটো সামাজিক মেলামেশাও একাকিত্বের অনুভূতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বাসা থেকে কাজ করলে এসব সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

সূত্র: ডেইলি মেইল