স্টারলিংকের আদলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর সময় জানাল অ্যামাজন
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংকের আদলে নিজেদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘লিও’ চালুর সম্ভাব্য সময় সর্ম্পকে জানিয়েছেন অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি জ্যাসি। তিনি জানান, এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাটি গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সঙ্গে আগাম চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০১৯ সালে ‘প্রজেক্ট কুইপার’ নামে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু করেছিল অ্যামাজন, গত বছর যার নাম পরিবর্তন করে ‘লিও’ রাখা হয়। বর্তমানে মহাকাশে অ্যামাজনের ২০০টি লো-অরবিট স্যাটেলাইট রয়েছে। জ্যাসি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরে মহাকাশে আরও কয়েক হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। অ্যামাজন বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরি করলেও স্পেসএক্সের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটি এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
অ্যান্ডি জ্যাসি জানিয়েছেন, লিও কেবল ইন্টারনেট সেবা নয়, এটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস ক্লাউড কম্পিউটিং সফটওয়্যারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা স্টোরেজ, অ্যানালিটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ সহজে করতে পারবে। ইতিমধ্যে ডেল্টা এয়ারলাইন্স ২০২৮ সাল থেকে নিজেদের ৫০০টি বিমানে অনবোর্ড ওয়াই–ফাই সেবা চালুর জন্য অ্যামাজনের সঙ্গে চুক্তি করছে। চুক্তির তালিকায় জেট-ব্লু, এটিঅ্যান্ডটি, ভোডাফোন, নাসা ও অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের মতো প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়্যারম্যান জেফ বেজোসের নিজস্ব মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন লিওর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রাথমিক দায়িত্ব নেবে। ফলে জেফ বেজোস ও ইলন মাস্কের এ লড়াই আগামী কয়েক দশকে মহাকাশশিল্পকে নতুন রূপ দেবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান