পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিল গেটস ও স্যাম অল্টম্যানের
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আকাশচুম্বী নির্মাণ ব্যয়ের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই এড়িয়ে চলছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের ফলে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়েই নতুন প্রজন্মের স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) বা ছোট পারমাণবিক চুল্লির দিকে ঝুঁকছে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।
গত জানুয়ারিতে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বিল গেটসের টেরাপাওয়ার ও স্যাম অল্টম্যানের অর্থায়িত ওকলোর সঙ্গে প্রায় ৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ বাড়িতে আলো জ্বালানো সম্ভব। ওহাইতে মেটার পরিকল্পিত বিশাল এআই ডেটা সেন্টার প্রমিথিউসের জন্য এই ক্লিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কেবল শুরু। ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের প্রযুক্তি গবেষণাপ্রধান ড্যান আইভস বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতিটি বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানই পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক বিদ্যুতের এক নতুন অধ্যায় দেখতে পাব।
প্রচলিত বড় পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করতে যেখানে এক দশক সময় লাগে, সেখানে ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর মাত্র তিন বছরে তৈরি করা সম্ভব। ওকলোর প্রধান নির্বাহী জ্যাকব ডিউইট বলেন, বাজার এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে। এআই ডেটা সেন্টারের জন্য যে পরিমাণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই। টেরাপাওয়ার বর্তমানে ওয়াইওমিংয়ে তাদের প্রথম ৩৪৫ মেগাওয়াটের এসএমআর প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে, যা ২০৩১ সাল নাগাদ গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে। মেটার সঙ্গে চুক্তির আওতায় তারা ২০৩২ সালের মধ্যে দুটি এবং পরবর্তী সময়ে আরও ছয়টি চুল্লি স্থাপন করতে পারে।
পুরোনো আমলের পারমাণবিক কেন্দ্রে চুল্লি ঠান্ডা রাখতে পানি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু টেরাপাওয়ার ও ওকলো ব্যবহার করছে তরল সোডিয়াম। সোডিয়াম অনেক ভালোভাবে তাপ পরিবহন করতে পারে এবং এতে উচ্চচাপের প্রয়োজন হয় না। ফলে বড় বড় কংক্রিট বা ইস্পাতের কাঠামোর খরচ অর্ধেকের বেশি কমে আসে। টেরাপাওয়ারের সিইও লেভেস্কের মতে, তাদের এই নেট্রিয়াম প্রযুক্তি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে খরচে পাল্লা দিতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া ওকলো কাজ করছে পারমাণবিক জ্বালানি পুনর্ব্যবহার নিয়ে। তাদের দাবি, জ্বালানি রিসাইকেল করা সম্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ইউরেনিয়াম মজুত দিয়ে আগামী ১৫০ বছর পুরো দেশের বিদ্যুৎ–চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
তবে নতুন প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস। সংস্থাটির পারমাণবিক নিরাপত্তা পরিচালক এডউইন লাইম্যান বলেন, নতুন এই নকশা মূলত কাগজে-কলমে আছে, বাস্তবে এদের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো অজানা। অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে প্রকল্প অনুমোদন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এত সব বিতর্কের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক শক্তিকে আমেরিকান নবজাগরণ হিসেবে দেখছে। তাদের লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৪০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা।
সূত্র: ফরচুন