দুই দিনের ব্যবধানে সূর্য থেকে ধেয়ে এলো চারটি শক্তিশালী সৌরশিখা
পৃথিবীর শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলের কারণে সূর্য থেকে নির্গত হওয়া সৌরশিখার সরাসরি প্রভাব মানুষের ওপর পড়ে না। তবে শক্তিশালী সৌরশিখার কারণে পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিড ও স্যাটেলাইট পরিচালনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সূর্য থেকে ধেয়ে আসা সৌরশিখা নিয়মিত নজরদারি করে থাকেন বিজ্ঞানীরা। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ মাসের শুরুতে সূর্য থেকে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছে চারটি শক্তিশালী সৌরশিখা, যার মধ্যে একটি ছিল খুব শক্তিশালী।
নাসার সোলার ডায়নামিকস অবজারভেটরি থেকে ধারণ করা সৌরশিখাগুলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি তিনটি শক্তিশালী সৌরশিখা নির্গত হয়। এর মধ্যে প্রথমটি যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩৩ মিনিটে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে এবং তৃতীয়টি সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। ২ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে চতুর্থ শিখাটি নির্গত হয়।
নাসার তথ্যমতে, প্রথম শিখাটিকে এক্স১.০ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি এক্স৮.১, তৃতীয়টি এক্স২.৮ এবং চতুর্থটি এক্স১.৬ শ্রেণির। এর মধ্যে দ্বিতীয় শিখাটি ছিল সবচেয়ে বিধ্বংসী। সায়েন্টিফিক আমেরিকানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি অন্যতম শক্তিশালী সৌরশিখা। তবে স্পেসওয়েদারলাইভ ডটকমের অনুমান, সৌরশিখাটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের পর সবচেয়ে উজ্জ্বলতম শিখা।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, শক্তিশালী সৌরশিখার ফলে তৈরি হওয়া শক্তিশালী ভূচৌম্বকীয় ঝড় উচ্চ ভোল্টেজের ট্রান্সফরমার নষ্ট করে দিতে পারে। এতে বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটা সম্ভব। এ ছাড়া জিপিএস, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং নেভিগেশন সিস্টেমও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি