মেটায় চাকরি করতে কেমন কর্মী দরকার, যা জানালেন সিটিও অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাতে কাজ করতে হলে কেমন মানসিকতা ও দক্ষতার প্রয়োজন, সে বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম ‘আস্ক মি এনিথিং (এএমএ)’ শিরোনামের এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অধিবেশনে এক ব্যবহারকারী জানতে চান মেটায় কী ধরনের কর্মীরা সবচেয়ে ভালোভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। জবাবে অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ বলেন, যাঁরা উৎকর্ষ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেন, তাঁরাই সাধারণত প্রতিষ্ঠানটিতে সবচেয়ে বেশি সফল হন। বোসওয়ার্থের মতে, মেটার সফল কর্মীরা নিজেদের কাজকে কেবল পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে দেখেন না, তাঁরা প্রকল্পকে নিজের করে দেখে কাজ করেন। নিজেদের অবদান নিয়ে তাঁরা গর্ববোধ করেন এবং দায়িত্ববোধ থেকেই কাজকে এগিয়ে নেন। দ্রুতগতির ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ কর্মপরিবেশে এই মানসিকতাই কর্মীদের অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
কর্মক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন বোসওয়ার্থ। তাঁর মতে, দক্ষ কর্মীরা সাধারণত সরাসরি ও স্পষ্টভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই ধরনের স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের যোগাযোগের ফলে প্রতিক্রিয়াকে ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে না দেখে উন্নতির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা সহজ হয়। যদিও সরাসরি মতামত দেওয়ার কারণে কখনো কখনো মতভেদও তৈরি হতে পারে। তবে কর্মক্ষেত্রে মতবিরোধ মোকাবিলার জন্য তিনি একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করেন বলে জানান বোসওয়ার্থ। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি তিনি এতবার ব্যবহার করেছেন যে অনেক সময় নিজের সিদ্ধান্ত বা আচরণ মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি খাতে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকেও গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বোসওয়ার্থ বলেন, পরিকল্পনায় পরিবর্তন এলে সফল কর্মীদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ভয় নয়; তাঁরা কৌতূহল নিয়ে ভাবেন, নতুন পরিস্থিতি তাঁদের জন্য কী ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি এবং মেটাভার্স–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে মেটা প্রায়ই নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। ফলে পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারা কর্মীরাই এ ধরনের কর্মপরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন।
প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত চরিত্রের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেন বোসওয়ার্থ। তাঁর মতে, কোনো কর্মী যত দক্ষই হোন না কেন, সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নৈতিকতার মতো গুণাবলি না থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। দক্ষতার পাশাপাশি ‘ভালো মানুষ’ হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কর্মীদের ব্যক্তিগত আচরণ ও মূল্যবোধ বড় ভূমিকা রাখে।
সূত্র: