বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ কারখানা তৈরি করবেন ইলন মাস্ক

ইলন মাস্কছবি: রয়টার্স

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ তৈরির কারখানা ‘টেরাফ্যাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। নতুন এ উদ্যোগকে মানবসভ্যতার প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টেসলা, স্পেসএক্স এবং এক্সএআইয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে টেসলার গিগা টেক্সাস কারখানার পাশেই টেরাফ্যাব স্থাপন করা হবে। কারখানাটিতে প্রতি মাসে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিনির্ভর প্রায় ১০ লাখ চিপ ওয়েফার তৈরি করা হবে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা টিএসএমসি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ২ ন্যানোমিটার ওয়েফার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ হিসাবে টেরাফ্যাবের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা বিদ্যমান শিল্পমানের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

চিপ তৈরির ক্ষেত্রেও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মাস্ক। তার মতে, এই কারখানা থেকে বছরে ১০০ থেকে ২০০ বিলিয়ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেমোরি চিপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এসব চিপের বড় অংশ ব্যবহার করবে টেসলা, বিশেষ করে টেসলার বৈদ্যুতিক গাড়ি ও রোবট পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।

নতুন কারখানা চালুর বিষয়ে ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, স্যামসাং, টিএসএমসি ও মাইক্রনের মতো বিদ্যমান সরবরাহকারীরা উৎপাদন বাড়াতে যে গতিতে এগোচ্ছে, তা টেসলার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। প্রয়োজন মেটাতে নিজস্ব উৎপাদনসক্ষমতা গড়ে তোলাই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণ অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। টিএসএমসির মতো প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জন সহজ নয়। এ কারণে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনীতিতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একইভাবে মহাকাশে বৃহৎ পরিসরের ডেটা সেন্টার স্থাপন করাও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: ম্যাশেবল