গুগল, মেটা, অ্যাপল, টেসলাসহ বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি ইরানের

একাধিক মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানপ্রতীকী ছবি: এআই/প্রথম আলো

মধ্যপ্রাচ্যে চলা যুদ্ধ এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালাচ্ছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা, অ্যাপলসহ ১৮টির বেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলার হুমকি দিয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীটি। ইরান সরকারের দাবি, এ প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের নেতাদের অবস্থান শনাক্ত ও গুপ্তহত্যায় সহযোগিতা করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ১ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এই মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা শুরু হতে পারে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এবং সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত কার্যালয় খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইরানের এই হুমকিকে দেশটির সামরিক কৌশলের এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে যেখানে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হতো, এখন সেখানে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যেহেতু লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও শনাক্তের মূল উপাদানগুলো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি, তাই এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এএফপির তথ্যমতে, ইরানের এ তালিকায় ১৮টির বেশি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান), গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, ইন্টেল, ওরাকল, এনভিডিয়া, ডেটা অ্যানালিটিকস ফার্ম প্যালানটিয়ার, বোয়িং ও টেসলা।

আরও পড়ুন

ইরান সরাসরি অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ ২৫০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। নতুন করে যদি আর কোনো ইরানের নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, তবে এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিণাম ভোগ করতে হবে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের এক কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া উচিত। এরই মধ্যে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজন এডব্লিউএসের ক্লাউড অবকাঠামো ড্রোন হামলার কারণে বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা এই হুমকির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া