আর বাজে না রিং টোন!

নতুন মুঠোফোনে নতুন নতুন রিং টোন ডাউনলোড করা এবং সে রিং টোনগুলো বাজিয়ে শোনার প্রবণতা কমে গেছে।
২০০০ সালের পর থেকেই মুঠোফোন রিং টোনের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছিল। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নতুন রিং টোন ডাউনলোড ফ্যাশন হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১০ সালের পর থেকেই মুঠোফোনের রিং টোনের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে এবং বর্তমানে মুঠোফোনের রিং টোনের বাজার একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি সিএনএন মুঠোফোনের রিং টোন বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশক আগে নতুন মুঠোফোনের সঙ্গে নতুন নতুন রিং টোন ডাউনলোড করাটা ফ্যাশনের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। শুরুর দিকে প্রতিটি রিং টোন ডাউনলোডের জন্য পাঁচ থেকে ছয় মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করেছেন মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা। নতুন নতুন গান বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে রিং টোন হিসেবে মুঠোফোনে পেতে আগ্রহী ছিলেন অনেকেই। ২০০৯ সালের পর থেকে নতুন রিং টোনের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।
নিয়েলসেন এন্টারটেইনমেন্ট ও ব্রডকাস্ট মিউজিকের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুঠোফোনের রিং টোনের বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কারণ এসময় নতুন নতুন অডিওগুলো মানুষ তাঁর মুঠোফোনে শুনতে চাইতেন। কিন্তু এরপর থেকেই মিউজিক সার্ভিসগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করায় রিং টোনের বাজার কমতে শুরু করে।

ক্রেতারা শুধু রিং টোন পেয়ে খুশি নয়। পুরো গান এবং গানটিকে রিং টোন হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে। বাজারে স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার ফলে রিং টোনের আগ্রহ হারিয়েছেন অনেকেই। স্মার্টফোনে ভিডিও, গেম, গান শোনা ও সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত হওয়ায় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রিং টোন আবেদন হারিয়ে ফেলেছে।

গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে টেক্সট বার্তা পাঠানোর প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় এবং অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার  মুঠোফোনে কল করার প্রবণতা তুলনামূলক কমে গেছে। তাই রিং টোনের প্রতিও আগ্রহ হারিয়েছেন অনেকেই।  রিং টোনের বাজার কমে যাওয়ার সংগীত জগতের সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বিষয়টিকে শাপেবর মনে করছেন।

বাজার গবেষকেরা জানিয়েছেন, রিং টোনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে রিং টোন ব্যবহারের উপায় খুঁজে পেয়েছেন।