সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র বিষয় থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।
# নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও-
মনীষা এমন একদল লোককে স্বপ্নে দেখল যারা নিজেদের মালিকানাধীন ভূমিতে গম ও কুমড়ার বীজ রোপণ করছে। ঘুম থেকে উঠে মনীষা বুঝতে পারল স্বপ্নের বিষয়ের সঙ্গে গতকাল ক্লাসে পড়া একটি প্রত্নতাত্ত্বিক যুগের মানুষের মিল রয়েছে। খ্রিষ্টের জম্মের কয়েক হাজার বছর আগে মধপ্রাচ্যে ওই যুগটির সূচনা হয়েছিল।
প্রশ্ন:
ক. প্রত্নতাত্ত্বিক কোন যুগকে আধুনিক যুগ বলা হয়? ০১
খ. প্রত্নতত্ত্ব হচ্ছে অতীতের ধ্বংসাবশেষ সমপর্কিত পাঠ বা গবেষণাগ্রন্থ, বুঝিয়ে লিখ। ০২
গ. মনীষা স্বপ্নের মধ্যে কোন যুগের মানুষকে দেখতে পেল? ০৩
ঘ. উক্ত যুগে অর্জিত কোনো আর্থ-সামাজিক সাফল্য কি তুমি দেখতে পাও? লিখ। ০৪
উত্তর: ক. লৌহ যুগকে আধুনিক যুগ বলা হয়।
উত্তর: খ. প্রত্নতত্ত্ব হলো জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা অতীত সমাজ সমপর্কে অধ্যয়ন করে। অতীত সমাজের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ও নিদর্শন দ্বারা সে সমাজ সমপর্কে জানার চেষ্টা করে। খনন কাজ থেকে উদ্ধারকৃত অতীত সমাজের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ সমপর্কে গবেষণা করে অতীত সমাজ সমপর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করে।
অতীত যুগের মানুষের বিভিন্ন বস্তুগত উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে যুগ সমপর্কে অধ্যয়নই প্রত্নতত্ত্ব। তাই প্রত্নতত্ত্বকে অতীতের ধ্বংসাবশেষ সমপর্কিত পাঠ বলে অভিহিত করা হয়।
উত্তর: গ. মনীষা স্বপ্নের মধ্যে নতুন প্রস্তর যুগের মানুষদের দেখতে পেয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে এ যুগের সূচনা হয়। পরে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও বৃটেনে এ যুগের সূচনা হয়।
প্রাচীন প্রস্তর যুগের তুলনায় এ যুগের সমাজ ও সংস্কৃতিতে উন্নতি সাধিত হয়। এ যুগে এসে খাদ্য উৎপাদন অর্থনীতির সূচনা হয়। মানুষ কৃষি কাজ করে ভূমিতে ফসল ফলাতে শিখে। একই সঙ্গে পশু পালন করতেও শিখে। মানুষকে আর খাদ্যের জন্য ঘুরে বেড়াতে হয় না। স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু হয়। এ যুগে মানুষ ভূমিতে গম, বার্লি, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে লাগল। উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের ফলে বাজারের উদ্ভব হয়। কৃষির উদ্ভবের ফলে ব্যক্তি মালিকানাও গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাচ্ছি মনীষার স্বপ্নে দেখা লোকগুলো নিজেদের ভূমিতে চাষাবাদ করছে। অর্থাৎ সেখানে কৃষির উদ্ভব হয়েছে এবং ভূমিতেও ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বলা যায়, মনীষায় স্বপ্নে দেখা লোকগুলো নতুন প্রস্তর যুগের অধিবাসী।
উত্তর: ঘ. প্রাচীন প্রস্তর যুগের সমাজ ও সংস্কৃতির তুলনায় নতুন প্রস্তর যুগের সমাজ ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। এ যুগে অর্জিত বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সাফল্য পরিলক্ষিত হয়।
নতুন প্রস্তর যুগে এসে প্রাচীন প্রস্তর যুগের খাদ্য সংগ্রহমূলক অর্থনীতির পরিবর্তে খাদ্য উৎপাদনমূলক অর্থনীতির সূচনা হয়। মানুষ কৃষি কাজ করে ভূমিতে ফসল ফলাতে শিখে। একই সঙ্গে তারা পশু পালন করতেও শিখে। এ যুগে এসে মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান হয়ে জীবনে স্থায়িত্ব আসে। এ যুগে মানুষ ভূমিতে গম, বার্লি, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ফলাতে শিখে। খাদ্যের জোগান আসায় মানুষের স্থায়ী বসবাসের জীবন শুরু হয়। উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের ফলে বাজারেরও উদ্ভব হয়।
ক্রমান্বয়ে শহর গড়ে উঠতে লাগল। খাদ্যের জোগান পাওয়ায় এক শ্রেণির মানুষ অবসর জীবন-যাপন করতে শুরু করে এবং এ লোকেরা শিল্প-সাহিত্যের চর্চা করতে শুরু করল যা সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ যুগে এসে কৃষি অর্থনীতি নির্ভর স্থায়ী মানবসমাজ গড়ে ওঠে। কৃষির উদ্ভবের ফলে ব্যক্তি মালিকাও গড়ে ওঠে এ যুগে। মানুষকে আগের মতো খাদ্যের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে না।
খাদ্য নিরাপত্তা আসায় জীবনের নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পায়। এ যুগের নানা সাফল্যের কারণে গর্ডন চাইল্ড এই যুগের সাফল্য ও পরিবর্তনকে নবপলীয় বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রভাষক, চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম