
মুক্তিযুদ্ধের পর পেরিয়ে গেছে ৪২ বছর। মুক্তিযুদ্ধের তথ্য পাওয়ার জন্য এখন ডিজিটাল দুনিয়া অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মুক্তিযুদ্ধের কথা, ছবি ও তথ্য নিয়ে তরুণেরা গড়ে তুলেছেন বেশ কিছু উদ্যোগ। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। নির্দিষ্টভাবে শুধু ওয়েবসাইটই নয়, বাংলা ভাষার ব্লগ, ফোরামসহ সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে, ফেসবুকেও রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ, যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারছে বাঙালির ইতিহাসের সাহসী সে সময়ের কথা।
মুক্তিযুদ্ধের নানা ধরনের তথ্য অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষণ করার এমন উদ্যোগে জড়িয়ে আছেন শিক্ষার্থী, তরুণ, গবেষকসহ অনেকেই। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রশংসনীয় উদ্যোগও রয়েছে।
ফেসবুকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো (www.facebook.com/Muktijuddhergolpo) নামের বিশেষ একটি পেজ চালু হয় ২০১১ সালের ২৬ জুন। বর্তমানে এ পেজের সদস্যসংখ্যা ৮১ হাজারের বেশি। এই পেজে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা ধরনের লেখা, ছবি ও তথ্য রয়েছে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি তার চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এবং জন্ম নেয় লাল-সবুজের পতাকার নতুন একটি দেশ, নাম যার বাংলাদেশ। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে নানা অজানা অধ্যায় আর বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। সহজভাবে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতেই চালু হয় ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনো’ পেজটি। মূলত গল্পের ঢঙে ইতিহাসকে তুলে ধরতে পেজটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ-তিতিক্ষা আর অর্জনের গল্প, ভালোবাসার গল্প, কষ্ট করে অর্জনের গল্প, এক জ্বলন্ত অধ্যায়ের গল্প, অস্তিত্বের গল্প, ইতিহাসের গল্প, নির্মম সত্য গল্প ইত্যাদি দিয়ে সাজানো পেজটি। বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি রয়েছে দুর্লভ সব ছবি।
মুক্তিযুদ্ধের বড় একটি তথ্যভান্ডার রয়েছে উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বাংলা উইকিপিডিয়া (https://bn.wikipedia.org) ও ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় (https://en.wikipedia.org)। এতে সারা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা ধরনের তথ্য ও ছবি যোগ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বাংলা উইকিপিডিয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ (http://goo.gl/fOhK0) নামের নিবন্ধে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর ঘটনা, পটভূমি, উত্তাল মার্চ, স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধক্ষেত্রের ঘটনা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গণহত্যা ইত্যাদির খবর বিস্তারিত। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ (http://goo.gl/XgZI0B), বীর উত্তম (http://goo.gl/QAyDi), বীর বিক্রম (http://goo.gl/qUBJ1) ও বীর প্রতীক (http://goo.gl/EFeMe) খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, ভূমিকা, অবদানের বিস্তারিত রয়েছে। উন্মুক্ত এ বিশ্বকোষে মাতৃভাষায় চাইলে যে কেউ যুক্ত করতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের নানা ছবি ও তথ্য। বাংলা উইকিপিডিয়ার পাশাপাশি ইংরেজি উইকিপিডিয়াতেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা তথ্য ও ছবি রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দেশের বাঙালি স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামে (আইসিএসএফ) নানা ধরনের তথ্য যোগ করে যাচ্ছেন। আইসিএসএফের ওয়েবসাইট (www.icsforum.org), ব্লগ, মিডিয়া আর্কাইভ, লাইব্রেরিতেও পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের নানা কথা। আইসিএসএফের নানা তথ্য রয়েছে ফেসবুকেও (www.facebook.com/icsforum)। এতে মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য, খবর, প্রমাণাদি পাওয়া যাবে।
মুক্তিযুদ্ধের খবর, মুক্তিযোদ্ধাদের খবর, ছবি ইত্যাদি সংগ্রহ, প্রকাশনাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করছে তরুণদের সংগঠন মুক্ত আসর। ‘স্বপ্ন ৭১’ নামের নিয়মিত প্রকাশনা বের করছে সংগঠনটি। পাশাপাশি নিজেদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে মুক্তিযোদ্ধাদের নানা খবর নিয়মিত প্রকাশ করে যাচ্ছে মুক্ত আসরের সদস্যরা।(https://www.facebook.com/MuktoAsor
তরুণদের আরও একটি উদ্যোগ ওয়ার ক্রাইমস স্ট্র্যাটিজি ফোরাম (www.wcsf.info)।
এখানেও দেশ-বিদেশের বাঙালি তরুণেরা মিলে স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কাজ করছেন। দেশি ও প্রবাসী ব্লগারদের উদ্যোগে তৈরি (www.genocidebangladesh.org) ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নানা তথ্য ও খবর পাওয়া যাবে।
এ সবের বাইরে রয়েছে আরো অসংখ্য প্রচেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আপনি ও আপনার বন্ধুরাও শুরু করতে পারেন নতুন কোনো উদ্যোগ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।