চাইলে এড়ানো যায় জন্মগত প্রতিবন্ধিতা

এম আর খান
এম আর খান

নানা কারণে অনেক শিশু জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হয়। বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, জন্মগত প্রতিবন্ধিতার কারণগুলো এবং প্রতিবন্ধিতা এড়াতে কী ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক. জন্মের আগে

১. মায়ের বয়স যদি ১৬ বছরের কম হয় বা ৪০ বছরের বেশি হয়, তাহলে সন্তানের অস্বাভাবিক হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

২. গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টির অভাব হলে সন্তান প্রতিবন্ধী হতে পারে।

৩. গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে যদি মায়ের জার্মান মিজেলস (রুবেলা) হয়, তাহলে সন্তান শ্রবণ, দৃষ্টি বা মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে।

৪. মায়ের যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে সন্তান অস্বাভাবিক হতে পারে।

খ. জন্মের সময়
১. সাধারণত অপ্রশিক্ষিত কোনো কর্মী বা ধাত্রীর দ্বারা সন্তান প্রসব করানো হলে সন্তানের বার্থ ট্রমা বা শ্বাসকষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করে শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারে।
২. সন্তান প্রসবের সময় জটিলতা দেখা দিলে ফরসেপের ব্যবহার লাগতে পারে। কিন্তু অপ্রশিক্ষিত কোনো কর্মী বা ধাত্রীর দ্বারা সন্তান প্রসব করানো হলে শিশু মাথায় কোনোভাবে আঘাত পেলে ওই শিশুর প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৩. জরায়ুতে শিশুর বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হলে ((Intra uterine growth retardation) সেই শিশু কোনো কোনো সময় প্রতিবন্ধী হতে পারে। মায়ের সন্তান প্রসবের সময় জীবাণু সংক্রমণ হলে শিশুর অস্বাভাবিক হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
৪. অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে আঘাত লাগলে বা পড়ে গেলে সময়ের আগেই সন্তান প্রসব হতে পারে। তখন শিশুর দেহে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে শিশু অনেক সময় অস্বাভাবিক হতে পারে।

পূর্ব সতর্কতা
১. কন্যাসন্তানকে শিশুকালেই হাম, মামস ও রুবেলা রোগের টিকা দিতে হবে। এখন নয় মাস বয়সেই এসব টিকা দেওয়া হয়।
২. বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। মেয়েদের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না। অল্প বয়সী মেয়েদের শরীর সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। সময়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হলে সেই শিশুর প্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মায়ের ওজন যদি কম হয়, তাহলে তাঁর গর্ভের শিশুর জন্মের সময় ওজন কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই শিশু যদি মেয়ে হয় এবং পরবর্তী সময়ে যখন মা হবে, তখন তার বাচ্চাও কম ওজনের হবে। এটাকে বলে ইন্টার জেনারেশন সাইকেল।
৩. অন্তঃসত্ত্বা মাকে সব সময় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড অবশ্যই খেতে হবে। অন্তঃসত্ত্বার প্রথম থেকে বাচ্চা প্রসূত হওয়ার তিন মাস পর্যন্ত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড চলবে। ফলিক অ্যাসিড না খেলে বাচ্চার নিউরাল টিউব, মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হয় না। অর্থাৎ নিউরাল টিউব ও মস্তিষ্কে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।