জীববিজ্ঞান

অধ্যায়-১১ n

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের অধ্যায়-১১ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

জামান              ফারজানা

A+veরক্ত B-ve রক্ত

প্রশ্ন:

ক. রক্তপাত কী?

খ. অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয় কেন?

গ. জামান ফারজানাকে রক্ত দিলে কী ঘটতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উল্লিখিত রক্ত গ্রুপ দুটি ছাড়া অন্যান্য রক্ত গ্রুপের রক্তের আদান-প্রদানে কী হতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর: ক. প্রবহমান রক্ত নালিগাত্রে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ বলে।

উত্তর: খ. অগ্ন্যাশয়ে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা উভয় প্রকার গ্রন্থির গুণাবলি বিদ্যমান। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত রসে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামের পরিপাককারী এনজাইম থাকে, যা খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। এসব কারণে অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা গ্রন্থি। অন্যদিকে অগ্ন্যাশয়ে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিদ্যমান, যা থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এসব কারণে অগ্ন্যাশয়কে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়।

উত্তর: গ. জামানের রক্ত গ্রুপ A+ve এবং ফারজানার B-ve। A গ্রুপের রক্তের প্লাজমায় B গ্রুপের রক্তের কনিকাগুলোকে অ্যাগ্লুটিনেট করার জন্য বা জট পাকানোর জন্য b অ্যান্টিবডি উপস্থিত থাকে এবং B গ্রুপের রক্তের প্লাজমায় A গ্রুপের রক্তকনিকাকে জট পাকানোর জন্য a অ্যান্টিবডি থাকে। তাই জামানের রক্ত ফারজানার দেহে প্রবেশ করালে b অ্যান্টিবডির ক্রিয়ায় ফারজানার দেহের রক্ত কনিকাগুলো জট পাকিয়ে যেতে পারে। আবার জামানের রক্ত A+ve গ্রুপের অর্থাত্ তার রক্তে Rh+ অ্যান্টিজেন রয়েছে। অন্যদিকে, ফারজানার রক্ত A-ve গ্রুপের অর্থাত্ তার রক্তে Rh- অ্যান্টিজেন রয়েছে। তাই প্রথমবার ফারজানার দেহে জামানের রক্ত দিলে, ফারজানার রক্তরসে ক্রমেই Rh+ অ্যান্টিজেনের বিপরীত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যাকে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর বলে। কিন্তু জামানের রক্ত দ্বিতীয়বার ফারজানার দেহে দিলে ফারজানার দেহের ‘অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টরের জন্য ফারজানার দেহে প্রবেশকৃত জামানের রক্ত জট পাকিয়ে পিণ্ডে রূপান্তরিত হবে।

উত্তর: ঘ. জামানের রক্তগ্রুপ A-ve এবং ফারজানার B+ve। ওই দুই প্রকার রক্তগ্রুপ ছাড়া অন্য রক্তগ্রুপ হলো ‘AB’ ও ‘O’। A গ্রুপের রক্তের b অ্যান্টিবডি B রক্তগ্রুপের লোহিত কনিকাকে জমাট বাঁধিয়ে ফেলে। অনুরূপভাবে B রক্তগ্রুপের অ্যান্টিবডি a, A রক্তগ্রুপের লোহিত কনিকাকে জমিয়ে দেয়। কিন্তু AB গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রক্তকে জমাতে পারে না। কারণ, সেখানে কোনো অ্যান্টিবডি নেই। একই কারণে O গ্রুপের রক্ত নিজের গ্রুপ ছাড়া অন্য তিনটি রক্তকে জমিয়ে দেয়। অর্থাত্ কারও দেহে O গ্রুপের রক্ত থাকলে তিনি কেবল O গ্রুপের রক্ত নিতে পারেন কিন্তু দেওয়ার সময় সব গ্রুপকেই রক্ত দিতে পারবেন। নিচে একটি ছকে রক্তগ্রুপের বৈশিষ্ট তুলে ধরা হলো:

রক্ত গ্রুপের নাম          অ্যান্টিজেন          অ্যান্টিবডি          যাঁদের রক্ত দান করতে পারেন       যাঁদের রক্ত গ্রহণ করতে পারেন

A       A           b          A ও ABA ও O

B       B           a          B ও AB B ও O

AB    A ও B    নেই          AB        A, B, AB ও O

O       নেই         a ও b       A, B, AB ও O       O

ওপরের তালিকা থেকে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে A রক্তগ্রুপের দাতা A ও AB রক্তের গ্রহীতাকে রক্ত দিতে পারেন। তেমনি B গ্রুপের দাতা B ও AB রক্তের গ্রহীতাকে রক্ত দিতে পারেন। AB রক্তগ্রুপের গ্রহীতাকে A, B, AB ও O অর্থাত্ যেকোনো গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। এ কারণে AB গ্রুপের রক্তকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়। তেমনি O গ্রুপের রক্ত যে কেউ নিতে পারেন। তাই O গ্রুপের রক্তকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়।

মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক

রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা