জীববিজ্ঞান

অধ্যায়-১৩ 
শিক্ষার্থীরা, আজ জীববিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যায়-১৩ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

# কনক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বাস করে। ঢাকার দূষণের সঙ্গে সে ভালোভাবেই পরিচিত। কিছুদিন আগে সে একটি গ্রামে বেড়াতে যায়। কনক লক্ষ করল, ঢাকার তুলনায় এখানে পরিবেশদূষণ অনেক কম। এ ব্যাপারে তার চাচার কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘ঢাকা শহরে যানবাহনের সংখ্যা বেশি এবং বনভূমির পরিমাণ কম থাকায় সেখানে দূষণের পরিমাণ বেশি। যানবাহন ও কলকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বনভূমির পরিমাণ হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে এ পৃথিবী মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।’
প্রশ্ন:
ক. মৃতজীবী খাদ্যশিকল কাকে বলে?
খ. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?
গ. কনক যে শহরে বাস করে, সে শহরে দূষণ বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. যানবাহন ও কলকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বনভূমির পরিমাণ হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে চাচার বক্তব্যের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক. জীবের মৃতদেহ থেকে শুরু করে যদি কোনো খাদ্যশৃঙ্খল একাধিক খাদ্যস্তরে বিন্যস্ত হয়, তবে সেরূপ শিকলকে বলা হয় মৃতজীবী খাদ্যশিকল।
উত্তর: খ. সূর্যের তাপ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। এ তাপের অনেকটাই বিকিরিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। ফলে, পৃথিবী খুব বেশি উত্তপ্ত হয় না। অপর দিকে, বায়ুমণ্ডল কিছুটা তাপ ধরে রাখার জন্য পৃথিবী বেশি ঠান্ডাও হয় না। কিন্তু অধিক হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও গাছপালা নিধনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড অধিক হারে সূর্যতাপ ধরে রাখে। ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে পৃথিবীর তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর তাপ বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভেতর দিয়ে মহাশূন্যে যেতে না পারার কারণে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়। পৃথিবীর তাপ বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া।
উত্তর: গ. কনক দীর্ঘদিন ঢাকা শহরে বাস করে। বিভিন্ন কারণে এ শহরের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। শিল্পকলকারখানাগুলো প্রধানত ঢাকা শহর বা শহরসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে। এসব শিল্পকারখানা থেকে প্রতিনিয়ত বাতাসে CO2, CO, NO2, CH4 ইত্যাদি গ্যাস মিশ্রিত হয়ে বায়ুকে দূষিত করছে। ঢাকায় প্রতিনিয়ত চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করছে।
ঢাকা শহরে প্রতিনিয়ত বনভূমি ধ্বংস করে স্কুল, কলেজ, অফিস, বাসগৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। বায়ুকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বনভূমির অভাবে CO2 ও O2-এর ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে বায়ু দূষিত হচ্ছে। এসব কারণে কনক যে শহরে বাস করে, সে শহরে দূষণ বেশি হচ্ছে।
উত্তর: ঘ. শিল্পবিপ্লবের পর থেকে শিল্পকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, তথা নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট পরিবেশদূষণ বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়।
নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে একদিকে যেমন বায়ুতে ক্ষতিকারক কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে নগরায়ণ ও শিল্পায়ন করতে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে পরিবেশ নির্মল রাখার উপাদান বনভূমিকে। ফলে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি এসব প্রভাবের মধ্যে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া অন্যতম।
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশের মতো অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রিনহাউসের প্রভাবে দেখা দেবে খরা ও বন্যা। এ কারণে সৃষ্টি হবে খাদ্যসংকট। আর খাদ্যের সংকট হলে দুর্ভিক্ষের কারণে বহু মানুষ মারা যাবে।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। অক্সিজেন তৈরি হয় গাছপালা থেকে। কিন্তু বনভূমি ধ্বংস ও CO2-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডলে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব দেখা দেবে, যা পৃথিবীতে মনুষ্যবসতিকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।
সুতরাং, চাচা যথার্থই বলেছেন, যানবাহন ও কলকারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বনভূমির পরিমাণ হ্রাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে এ সুন্দর পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক
রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা