বা ং লা দে শ ও বি শ্ব প রি চ য়

অধ্যায়-২ 
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের অধ্যায়-২ থেকে প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করব।

প্রশ্ন: বাংলার শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বৃটিশ শাসনের প্রভাব কী ছিল?
উত্তর: বাংলায় বৃটিশ শাসনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শোষণ ও নিজেদের লাভ। প্রায় ২০০ বছরের শাসনকালে প্রচুর অর্থ ও সম্পদ এ দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়।
বাংলার শিক্ষায় বৃটিশ শাসনের প্রভাব:
১. এ সময় বাংলায় নারীদের অবস্থা একেবারেই পিছিয়ে ছিল। এ পরিস্থিতিতে ইংরেজদের মাধ্যমে এ দেশে ইংরেজি শিক্ষার প্রচলন হয়।
২. শিক্ষাবিস্তারে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. ছাপাখানার বিকাশের ফলে এ দেশে ক্রমে ক্রমে ইংরেজি শিক্ষিত একটি শ্রেণি গড়ে ওঠে।
৩. তাঁদের একাংশের মধ্যে নতুন চেতনার বিকাশ ঘটতে থাকে। তাঁরা নিজেদের সমাজের বহুকাল ধরে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও কুপ্রথা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।
৪. আধুনিক ও ইংরেজি শিক্ষার ফলে উনিশ শতকে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
বাংলার অর্থনীতিতে বৃটিশ শাসনের প্রভাব:
১. বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের তাঁতশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
২. বাংলার শিল্প-বাণিজ্য নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৩. অসংখ্য কারিগর বেকার হয়ে যান।
কোম্পানি শাসনের সময় ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত।
নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর সংক্ষেপে উত্তরপত্রে লেখ:
প্রশ্ন: কত সালে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়?
উত্তর: ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়।
প্রশ্ন: বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব।
প্রশ্ন: কত বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাব হন।
প্রশ্ন: বাংলায় ইংরেজ বণিকদের বাণিজ্য সংস্থার নাম কী ছিল?
উত্তর: বাংলায় ইংরেজ বণিকদের বাণিজ্য সংস্থার নাম ছিল বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
প্রশ্ন: বৃটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম শাসনকর্তা কে ছিলেন?
উত্তর: কোম্পানির প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন লর্ড ক্লাইভ।
প্রশ্ন: বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে বাংলায় কারা কারা বাণিজ্য করতে এসেছিল?
উত্তর: ইংরেজ, পর্তুগিজ, ডাচ, ফরাসি ও অন্য ইউরোপীয় বণিকেরা বাংলায় বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে এসেছিল।

শিক্ষক. বিয়াম ল্যবরেটরি স্কুল, ঢাকা

পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল