বাংলা

মূলভাব  অংশ-৩
প্রিয় ২০১৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। আজ বাংলা বিষয়ের ৭নং প্রশ্ন অনুচ্ছেদ বা কবিতাংশটুকুর মূলভাব লেখো প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। প্রশ্নের নম্বর থাকবে ৫।

৭. কবিতাংশ:
অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী
যত গুণগান হে চির মহান
তোমারি অন্তর্যামী।
দ্যুলোকে-ভূলোকে সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী।
মূলভাব: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা এই জগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রেমময় ও সর্বশক্তিমান। কবি তাঁর কাছেই প্রার্থনা করছেন শক্তি ও সাহস। প্রার্থনা করছেন সরল, সঠিক ও পুণ্য পথে চলার দিশা।
৮. কবিতাংশ:
আমাদের মেসে ইমদাদ হক ফুটবল খেলোয়াড়
হাতে-পায়ে-মুখে শত আঘাতের ক্ষতে খ্যাতি লেখা তার।
মূলভাব: এক মজার বন্ধুর কথা বলা হয়েছে এই কবিতায়। জাত খেলোয়াড় ইমদাদ হক। খেলা ও খেলায় জেতাই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। নিজের অবস্থা যেমনই হোক না কেন, খেলাপাগল সে, খেলবেই। খেলতে গিয়ে তার নিজের শারীরিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন, জেতাটাই আসল। খেলতে গিয়ে ইমদাদ কত শত আঘাত পায়। তবু সেসব কষ্টকে পরোয়া না করে সে খেলে এবং তার জন্যই খেলায় জিত আসে। সব দর্শক খেলার আনন্দ তার জন্যই পায়। এই কবিতায় খেলাচ্ছলে একটি আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। নিজের যতটুকু যোগ্যতা, তার সবটুকু দিয়ে মানুষ যদি একান্তভাবে কিছু করে, তবে অন্য সবার জন্যও সে বড় কিছু করতে পারে।
৯. কবিতাংশ:
বর্গি এল খাজনা নিতে,
মারল মানুষ কত।
পুড়ল শহর পুড়ল শ্যামল
গ্রাম যে শত শত।
হানাদারের সঙ্গে জোরে
লড়ে মুক্তি-সেনা,
তাদের কথা দেশের মানুষ
কখনো ভুলবে না।
মূলভাব: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি জয়লাভ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। আগে এ দেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। হানাদার পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা জয়ী হয়েছিলেন। এই কবিতায় পাকিস্তানিদের অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেন এ দেশের সন্তানেরা সংগ্রাম করেছিল, সে কথাও বলা হয়েছে।

শিক্ষক, আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল