বুঝে-শুনে ইন্টারনেট

ইন্টারনেট ব্যবহার এখন আর বিলাসিতা নয়। বরং প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে বাড়ছে ডেস্কটপ, ল্যাপটপ কম্পিউটার ও মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তারহীন ও তারের মাধ্যমে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে। প্যাকেজ অনুযায়ী ইন্টারনেটের গতিও বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, সব প্যাকেজ সবার জন্য প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। ব্যবহারকারী তার কাজের ধরন অনুযায়ী পছন্দের প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারেন। এতে ইন্টারনেটের পেছনে বাড়তি খরচ হবে না। আবার ব্যবহারকারীর ওপর অনেকটাই নির্ভর করে ইন্টারনেটের খরচ কমানোর বিষয়টা।
ডেস্কটপ কম্পিউটারে ইন্টারনেট
ডেস্কটপ কম্পিউটারে ব্যবহার করার জন্য ‘কেব্ল লাইনের ব্রডব্যান্ড সংযোগ’ ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত প্রতিটি এলাকাতেই এ রকম ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট গতির এই সংযোগগুলোয় মাসে অসীম (আনলিমিটেড) ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ প্যাকেজ নির্ধারণ করে থাকে ইন্টারনেটের গতির ওপর ভিত্তি করে, ইন্টারনেটে ডেটা ব্যবহারের ওপর নয়। ফলে উচ্চগতি পেতে বেশি দামের প্যাকেজ নিতে হবে।
দেশে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তারহীন ওয়াইম্যাক্স সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ব্যবহার করার জন্য বেশ কয়েক ধরনের ওয়াইম্যাক্স মডেম প্যাকেজসহ বিক্রি করছে। ইন্টারনেটের গতি ও পরিমাণ পরিবর্তন করে প্যাকেজগুলো নির্ধারণ করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
মুঠোফোনে ইন্টারনেট
দেশের সবগুলো মোবাইল টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে। টুজির পাশাপাশি এখন উচ্চগতির থ্রিজি সংযোগ নিয়েও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
টুজি বা থ্রিজি সংযোগের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখ না রেখে শুধু ডেটা ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্যাকেজগুলো নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এসব প্যাকেজে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইন্টারনেট প্যাকেজটি সক্রিয় থাকে।
বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আবার সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছে, যেগুলো অন্যান্য সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারের প্যাকেজ থেকে কম দামে ছাড়া হচ্ছে। উইকিপিডিয়া জিরো প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও এয়ারটেল থেকে মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া ব্যবহারে কোনো ইন্টারনেট খরচ হয় না।
মডেমের মাধ্যমে টুজি বা থ্রিজি ইন্টারনেট ডেস্কপট বা ল্যাপটপ কম্পিউটারেও ব্যবহার করা যায়। তবে ডেস্কটপের অন্যান্য প্যাকেজ যেমন ‘কেব্ল ব্রডব্যান্ড’ বা ‘ওয়াইম্যাক্সের’ তুলনায় এই থ্রিজি ইন্টারনেটের প্যাকেজের চাহিদা বেশি। তাই ডেস্কটপে ব্যবহার করতে হলে থ্রিজির অন্য প্যাকেজগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে।
একাধিক যন্ত্রে ইন্টারনেট
বাসায় অনেকেই একই সঙ্গে একাধিক যন্ত্র থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি যন্ত্রের জন্য আলাদা সংযোগ না কিনে একটি উচ্চগতির সংযোগ নিয়ে সেটা থেকে সবাই ইন্টারনেট-সুবিধা পেতে পারেন। তারহীন ওয়াই-ফাই রাউটার দিয়ে এই কাজটি করা যায়। ওয়াই-ফাই রাউটারগুলো বিভিন্ন দামের পাওয়া যায়, সাধারণত কতটুকু জায়গার জন্য ওয়াই-ফাই পাওয়া যাবে, তার ওপর ভিত্তি করে রাউটারের দাম কম-বেশি হয়ে থাকে।
রাউটারে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। ব্রডব্যান্ড, ওয়াইম্যাক্স বা থ্রিজি যুক্ত করার মতো রাউটার পাওয়া যায়। রাউটারে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট সংযোগ যুক্ত করার পর রাউটারে তার ছাড়া যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
নানা রকম প্যাকেজ
কত দিনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, তার ওপর নির্ভর করে প্যাকেজ নির্ধারণ করুন। মুঠোফোনের থ্রিজি ইন্টারনেটের জন্য এক মাসের পূর্ণ প্যাকেজের পাশাপাশি এক, দুই, পাঁচ বা সাত দিন ব্যবহারের জন্য কম টাকার প্যাকেজ পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এই প্যাকেজগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু সামাজিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করতে চাইলে, সোশ্যাল প্যাকেজগুলো সক্রিয় করা যেতে পারে।
মুঠোফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় যদি শুধু সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার, ই-মেইল যোগাযোগের মতো কাজ করা হলে ১ জিবি বা ২ জিবির প্যাকেজ নেওয়াই যথেষ্ট।
অনেক বেশি ওয়েব ব্রাউজ করা, নিয়মিত বিভিন্ন ফাইল বা অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার জন্য কিছুটা বড় আকারের ইন্টারনেট প্যাকেজ নেওয়া উচিত।
একেবারে প্রথম ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হলে, ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ধারণা করে প্রথমে একটি ছোট আকারের প্যাকেজ নেওয়া যেতে পারে, পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যাকেজ পরিবর্তন করা যেতে পারে।
নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করা হলে, বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা দেখে সেগুলো নেওয়া যেতে পারে। বড় কথা হলো আপনার কাজ বুঝে ইন্টারনেট প্যাকেজ নেওয়া ভালো।
লেখক: সফটওয়্যার প্রকৌশলী