সেরা দশের শীর্ষে কলেজিয়েট স্কুল
গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস করেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ।
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের সেরা ১০ বিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রামের সরকারি কলেজিয়েট স্কুল।
এ বছর সর্বমোট ৮৬ হাজার ৩৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭৬ হাজার ৩৭ জন। ফেল করেছে ১০ হাজার ৩৩০ জন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর বোর্ড কার্যালয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পীযূষ দত্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফলাফল ভালো হয়েছে। কারণ, এ বছর যারা এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা সবাই জেএসসি পরীক্ষা পাস করেই এ পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় বসায় তাদের ফলাফলেও এর প্রতিফলন ঘটেছে।’
গতকাল দুপুরে ফলাফল জানতে পরীক্ষার্থীরা ছুটে আসে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে। মা জোৎস্না আক্তারকে নিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজিয়েট স্কুলে আসে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী আ স ম রাগিব আহসান। রাগিবের চোখেমুখে অন্য রকম উচ্ছলতা। সে বলে, ‘বাবা-মা আর শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ভালো ফল করতে পেরেছি।’ ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চায় রাগিব।
এগিয়ে আছে কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা: গত বছরের তুলনায় এবার কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় পাসের হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৮৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৭৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। রাঙামাটি জেলায় ৮২ দশমিক ২৩ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ১১ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
ফলাফল প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের আশানুরূপ ফলাফলের জন্য আমি অবশ্যই খুশি হয়েছি। তবে আমি মনে করি, একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়নের জন্য শুধু এ ধরনের ভালো ফলই যথেষ্ট নয়। তার মধ্যে নীতিনৈতিকতা, মানবিকতা, পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা বোধ জাগাতে হবে। তা না হলে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকাশ ঘটবে না। আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মধ্যে এসব শিক্ষাও দিচ্ছি, যাতে সত্যিকার অর্থে তারা পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে।’
শীর্ষ দশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এ ছাড়া তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, পঞ্চম ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ষষ্ঠ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল, সপ্তম সিলভার বেলস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, অষ্টম চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল ও কলেজ, নবম চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় এবং দশম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়।