২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষা: বিশেষ প্রস্তুতি-১

মাসুক হেলাল
মাসুক হেলাল

সৃজনশীল প্রশ্ন বঙ্গভাষা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। বাংলা ১ম পত্রের একটি সৃজনশীল প্রশ্ন এবং তার উত্তর দেওয়া হলো।
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
যেই দেশে যেই বাক্য কাছে নরগণ
সেই বাক্য বুঝে প্রভু আপে নিরঞ্জন
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি।
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি।
প্রশ্ন:
ক. ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার অষ্টকের মূলভাব কী? ১
খ. বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চায় কবি বিফল হলেন কেন? ব্যাখ্যা করো। ২
গ. কবিতাংশটির শেষ চরণ দুটিতে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার ষটকের কোন পঙিক্তর ভাবার্থের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. গঠনশৈলীর ভিত্তিতে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার ষটকের সঙ্গে কবিতাংশটির একটি তুলনামূলক আলোচনা করো। ৪
উত্তর: ক. ‘বঙ্গভাষা’ কবিতাটির অষ্টকের মূলভাব হলো, মাতৃভাষার প্রতি উপেক্ষাজনিত মনোবেদনা।
উত্তর: খ. বিদেশি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করে তিনি বিফল হলেন। কারণ, তাঁর প্রথম কাব্য ক্যাপটিভ লেডি কাব্য হিসেবে সমাদৃত হয়নি। কবির একান্ত স্বপ্ন ও ইচ্ছা ছিল ইংরেজি সাহিত্যের কবি হওয়ার। এ লক্ষ্যকে সম্পূর্ণ করার নিমিত্তে তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। সুদূর ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে ইংরেজিতে রচিত ক্যাপটিভ লেডি কাব্যটি সমাদর লাভ করেনি। এভাবে তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্য সাধনায় অর্থাৎ বিদেশি সাহিত্যচর্চায় বিফল হন।

উত্তর: গ. কবিতাংশের শেষ চরণদ্বয়ে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার ষটকের শেষ দুই পঙিক্তর ভাবার্থের প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্ধৃতাংশে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মহিমা ফুটে উঠেছে। ঐহিত্যগতভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ দেশে যারা বসবাস করে আসছে, তারা সবাই বাংলাভাষী। এ ভাষাতেই তারা মনের যত ভাব প্রকাশ করে জীবন কাটিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্যে। বিভিন্ন পালা-পার্বণে, ধর্মে-কর্মে, উৎসবে-অনুষ্ঠানে ব্যবহূত হয়েছে বাংলা ভাষা। এ ভাষায় রচিত কাব্য-সাহিত্য এ দেশের মানুষকে দিয়েছে আনন্দ ও তৃপ্তি। কাজেই বাংলা ভাষাই এ দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে হিতকর ও মঙ্গলজনক।
‘বঙ্গভাষা’ কবিতায় ও শেষ দুই চরণে বাংলা ভাষার প্রতি গুরুত্ব ও মঙ্গলজনক দিকটি ফুটে উঠেছে। অবোধ ও অজ্ঞান কবি মাতৃভাষা বাংলাকে অবজ্ঞা করে বিদেশি ভাষাচর্চায় ব্রতী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রথম কাব্য ক্যাপটিভ লেডি সমাদৃত না হওয়ায় তিনি বিফল হয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়েছিলেন। এ সময় তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐশ্বর্যে চমৎকৃত হয়ে এ ভাষাতেই সাহিত্য রচনা শুরু করেন। সহসাই কবি ও নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বিদেশি ভাষা-সাহিত্য চর্চা করে যে গৌরব ও প্রশংসা পেতে চেয়েছিলেন, তা তিনি নিজ ভাষায় সাহিত্য চর্চা করে পেয়েছেন। মাতৃভাষা বাংলাই তাকে দিয়েছে সার্থকতা ও সাফল্য। কাজেই বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য মাতৃভাষা বাংলাই অধিকতর হিতকর।
উত্তর: ঘ. গঠনশৈলীর দিক থেকে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার ষটকের সঙ্গে কবিতাংশটির সামান্য মিল-অমিল রয়েছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো।
‘বঙ্গভাষা’ একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। সনেটের গঠন-প্রকৃতি ও চরণের মিল সুনির্দিষ্ট। একটি বিশেষ রূপকল্প ১৪টি চরণের মধ্যে একটি অখণ্ড মণ্ডল তৈরি করে। এর অষ্টকে যে ভাব প্রকাশিত হয়, ষটকে থাকে তার সম্প্রসারণ বা পরিণতি। অষ্টকে আটটি এবং ষটকে ছয়টি চরণের প্রতিটিতে ৮+৬ মাত্রার দুটি পর্বে ১৪টি করে চরণ রয়েছে।
এ কবিতার সনেটের অন্ত্যমিল গঘ ও ঘগ ও ঙঙ। ষটকের একাদশ ও দ্বাদশ চরণ পেত্রার্কীয় এবং ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ চরণ শেক্সপিয়ারীয় রীতির প্রতিফলন ঘটেছে। ষটকে বর্ণিত হয়েছে স্বপ্ন নির্দেশে সাহিত্যধারার পরিবর্তন এবং তাতে সিদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে পরিতৃপ্তি। এর ভাববস্তু যেমন মার্জিত, পরিশীলিত, তেমনি শিল্পরূপেও উঁচু মানের। এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
কবিতাংশটি একটি স্বভাষা ও স্বদেশপ্রেমমূলক গীতি কবিতার অন্তর্গত। এতে মাতৃভাষাপ্রীতি দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে। এটি অক্ষরবৃত্ত পয়ার ছন্দে রচিত। এর প্রতিচরণে ৮+৬ মাত্রার দুটি পর্ব রয়েছে। চরণগুলো ১৪ মাত্রার হলেও এটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা নয়। তা ছাড়া এটি ২০ চরণসংবলিত কবিতা ১৪ চরণ নয়। কবিতাংশে বাংলা ভাষাবিদ্বেষীদের প্রতি তীব্র কটাক্ষ যেমন প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা বিধৃত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যযুগীয় পরিবেশে এমন বলিষ্ঠ বাণীবদ্ধ কবিতার নির্দশন দুর্লভ।

প্রভাষক, রূপনগর মডেল কলেজ, ঢাকা

পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল