
ভাব সম্প্রসারণ
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ২য় পত্র থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাব সম্প্রসারণ দেওয়া হলো।
বিদ্যা বিনয় দান করে, বিনয় দ্বারা
জগৎ বশীভূত হয়
ভাব সম্প্রসারণ: বিদ্যা ও বিনয় দুটিই শিক্ষণীয় বিষয়। বিদ্যা অর্জন করলে বিনয় আপনি জন্মে। আর বিনয়ের দ্বারা জগতের অসাধ্য কাজও অতি সহজেই সাধন করা যায়। মানুষের জীবন গঠনের জন্য বিদ্যা অর্জন করা অপরিহার্য। বিদ্যা দ্বারা মানুষ যেমন জগৎকে জয় করতে পারে, তেমনি বিদ্যা ছাড়া মানুষ জগতে কোনো কিছুই লাভ করতে পারে না।
মানুষের বৈষয়িক ও অবৈষয়িক যত সম্পদ আছে, বিদ্যা তার মধ্যে অন্যতম প্রধান। বিদ্যা-বুদ্ধিহীন মানুষ অন্ধের মতো। জীবনে পথ চলতে গিয়ে তাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সাংঘাতিকভাবে হোঁচট খেতে হয়। মানুষ জন্মে অবোধ হয়ে। কিন্তু জন্মের পর থেকে শুরু হয় বিদ্যাশিক্ষা অর্জনের পালা। আর তা মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিদ্যাশিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ন্যায়নীতি, বিবেকবোধ, আত্মসম্মানবোধ, আইনশৃঙ্খলা মানার প্রবণতা, স্বাধীকার ও অধিকার বোধ জন্মে। মানুষের পাশবিক চিন্তাচেতনা লোপ পায়। মানুষ বিনয় শেখে।
বিনয় হচ্ছে এমন একটি গুণ, যা মানুষকে সফলতার পথে প্রতিনিয়ত পরিচালিত করে। উদ্ধত আচরণে যে কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু বিনয়ের মাধ্যমে মানুষ মানুষকে খুব সহজেই জয় করতে পারে। যেকোনো কাজ, যেকোনো মানুষকে যদি বিনয়ের সঙ্গে করতে বলা হয়, তবে সে তা খুব সহজেই অতি আন্তরিকতার সঙ্গে করবে। কিন্তু রূঢ় ভাষায় উদ্ধতভাবে যদি কাউকে কিছু করতে বলা হয়, সে তা করবে না। বিনীতভাবে অনুরোধ করলে পাষাণসম হূদয়ের মানুষও গলে যায়। আর সে জন্যই বলা হয়, বিদ্যা বিনয় দান করে, মানুষকে পরিশীলিত করে। আর বিনয় দ্বারাই জগৎকে বশীভূত করা যায়। বিদ্যা মানুষের আচরণের পরিবর্তন ঘটায়। বিদ্যা অজ্ঞতা ও মূর্খতার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে। বিদ্যার আলোয় আলোকিত না হলে মানুষের জীবন হয়ে ওঠে অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশের একমাত্র অবলম্বন হলো বিদ্যা। বিদ্যা মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ, যা দ্বারা মানুষ তার সঠিক পথ খুঁজে পায়। এটি মানুষকে মহৎ গুণের অধিকারী হতে সাহায্য করে। মানুষের চরিত্রের একটি মহৎ গুণ হলো বিনয়। আর এটি অর্জন করতে হলে প্রয়োজন শিক্ষার। বিদ্যা যেমন মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত করে, তেমনি বিনয়ও মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুদূরপ্রসারী করে গড়ে তোলে। বিদ্যাকে জীবনের সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে জীবন হয়ে ওঠে সুন্দর ও সুখময়।
আমাদের প্রত্যেকেরই বিদ্যা বা সুশিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সুশিক্ষা আমাদের বিনয় শেখাবে, যা দ্বারা আমরা সবাইকে বশীভূত করে কার্য উদ্ধার করতে পারব। সুশিক্ষা মানুষের জীবনের অমূল্য সম্পদ। আর সুশিক্ষার আলোকে মনুষ্য-জীবন হয়ে ওঠে আলোকময়। সে জন্য বিদ্যার সঙ্গে যদি বিনয় থাকে, তাহলে জীবন আরও আলোকিত হয়।
সিনিয়র শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা