বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেএলপিডিএফের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ কয়েকজন মৃত সেনাকে দাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন একটি ছবি কেআর বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে। গ্রুপটি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মেজর ইয়ে হতুত ওর আংশিক পুঁতে রাখা মরদেহও খুঁজে পাওয়া গেছে। জান্তা বাহিনী পালানোর সময় তাঁকে ওভাবে ফেলে রেখে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে ছয়টি গাড়িতে করে জান্তা সেনারা কাওলিনে ঢুকেছিলেন বলে জানা যায়।

গত শুক্রবার স্থানীয় এক বাসিন্দা ইরাবতীকে জানিয়েছে, কাওলিনের অনেক এলাকাই এখন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) নিয়ন্ত্রণে। তারা বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়েছে।

সম্প্রতি জান্তা বাহিনী ও বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধযোদ্ধাদের মধ্যে সহিংসতার অন্যতম হটস্পট হয়ে উঠেছে কাওলিন। গত জুলাইয়ে সেখানে কেএলপিডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৪ সেনা নিহত ও আরও ২০ জন আহত হন। এ সময় মারা যান তিন প্রতিরোধযোদ্ধা।
কাওলিনের বেসামরিক যোদ্ধারা এখন জান্তা সেনা হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত শুক্রবার কেআর দাবি করে, কাওলিনের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করছে জান্তা। গত বৃহস্পতিবার কুনহ্লা অঞ্চলে পিডিএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে জান্তা সরকার।

মিয়ানমারের ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের (এনইউজি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার কুনহ্লা সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হেলিকপ্টারে করে গুলি চালিয়েছেন জান্তা সেনারা। তবে স্যাগাইন অঞ্চলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন তাঁরা। শুক্রবার সকালে বেসামরিক প্রতিরোধযোদ্ধাদের গ্রুপ মায়াং শহরের পুলিশের স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। এই স্থাপনা ব্যবহার করে হামলা চালাতেন জান্তা সেনারা।

এনইউজির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জান্তা সেনাদের সঙ্গে প্রতিরোধযোদ্ধাদের ১২৭টি সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ২০০ জান্তা সেনা নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়েছেন।

জান্তা সেনাদের গোলাবর্ষণ

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহরে গোলাবর্ষণ করেন জান্তা সেনারা। এ ঘটনার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডে কয়েক ডজন ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে সেভ দ্য চিলড্রেনের অফিসও রয়েছে।

খিট থিট মিডিয়া ও চিন্ডউইন নিউজের তথ্য অনুযায়ী, চিন রাজ্যের থান্টলাংয়ে প্রতিরোধ বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেন জান্তা সেনারা।

থান্টলাংয়ের এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় প্রতিরোধযোদ্ধারা এক জান্তা সেনাকে আটক করার পর জান্তা বাহিনী গোলাবর্ষণ শুরু করে। তিনি শুনেছেন, ৮০ থেকে ১০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তবে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে নাকি গোলার আঘাতে ধ্বংস হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে শহর থেকে আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, আগুনে ১০০ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলা ১১টার দিকে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করেন মিয়ানমারের সরকারি সেনারা।

গত মাসে ওই অঞ্চলে লড়াই শুরু হলে থান্টলাংয়ের সাড়ে সাত হাজার বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন