default-image

ইরানে করোনাভাইরাসের তৃতীয় টিকার মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই টিকার নাম দেওয়া হয়েছে দেশটির ‘বোমার জনক’ মোহসেন ফাখরিজাদেহর নামে। ফাখরিজাদেহ গত বছরের নভেম্বরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। খবর আল-জাজিরার।


ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড ছিল গত বছরের অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরান দায়ী করে থাকে ইসরায়েলকে। তাঁর স্মরণেই এই টিকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফাখরাভ্যাক’। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ফাখরিজাদেহর অধীনে বিজ্ঞানীদের একটি দল এই টিকা নিয়ে গবেষণা করছিলেন।


আজ মঙ্গলবার টিকাটি প্রথম জনসম্মুখে আনা হয়। এ জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি এবং ফাখরিজাদেহর পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ফাখরিজাদেহকে ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন


এদিকে মানবদেহে পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই টিকা প্রথম নিয়েছেন ফাখরিজাদেহর ছেলে হামেদ ফাখরিজাদেহ। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি বলেন, ‘আজ আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, আসছে বসন্তে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো টিকা তৈরিকারক হবে ইরান।’


ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ। পশ্চিমারা মনে করে, তেহরানের এই পারমাণবিক কর্মসূচি তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত।


ফাখরাভ্যাক ছাড়াও ইরানে আরও দুটি টিকা উদ্ধাবনের কাজ চলছে। এর একটি হলো কভ-ইরান বারেকাত। অপরটি কিউবা ও পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের তৈরি সোবেরানা-২। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিন টিকার মধ্যে ইরানে সোবেরানা-২ টিকার প্রয়োগ সবার আগে শুরু হবে। এ ছাড়া ভারতের সেরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও রাজি ভ্যাকসিনের তৈরি আরেকটি টিকা মানবদেহে পরীক্ষা চলছে ইরানে।


এ ছাড়া বিদেশ থেকেও টিকা সংগ্রহ করছে ইরান। ভারত, চীন ও রাশিয়ার কাছ থেকে টিকা পাচ্ছে দেশটি। ভারতের কাছ থেকে কোভ্যাকসিন, রাশিয়ার কাছ থেকে স্পুটনিক-ভি ও চীনের সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে দেশটি।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন