কোভিড-১৯-এর চেয়েও বড় হুমকি বৈশ্বিক উষ্ণতা। শুধু গত বছরেই বিশ্বে ৩০৮টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এসবের ৭৭ শতাংশই জলবায়ু ও আবহাওয়া সংক্রান্ত। এসব দুর্যোগে অন্তত ২৪ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে
কোভিড-১৯-এর চেয়েও বড় হুমকি বৈশ্বিক উষ্ণতা। শুধু গত বছরেই বিশ্বে ৩০৮টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এসবের ৭৭ শতাংশই জলবায়ু ও আবহাওয়া সংক্রান্ত। এসব দুর্যোগে অন্তত ২৪ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছেফাইল ছবি: রয়টার্স

করোনা মহামারির প্রকোপের মধ্যেও থেমে নেই জলবায়ু পরিবর্তন। করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার মতো সমান গুরুত্ব জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতেও দেওয়া উচিত। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার এসব কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯-এর চেয়েও বড় হুমকি বৈশ্বিক উষ্ণতা।

এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, ১৯৬০ সাল থেকে হওয়া বৈশ্বিক বিপর্যয়গুলোর ওপর গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড–১৯–কে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০টি বৈশ্বিক বিপর্যয় ঘটেছে। এসবের অনেকগুলোই জলবায়ু–সম্পর্কিত। আর বিশ্বজুড়ে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ এসব বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইএফআরসির মহাসচিব জাগান শাপাগেইন এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন করোনা মহামারি চলছে, এটি আমাদের সবার সামনে আছে। করোনা আমাদের পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়দের আক্রান্ত করছে। আমরা এখন অনেক বড় সংকটের মুখোমুখি।’ একই সময় তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, আইএফআরসি আশঙ্কা করছে জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব ও মানুষের জীবনে আরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞাপন

এএফপি বলছে, সম্প্রতি কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান করোনার টিকা তৈরিতে আশার কথা শোনাচ্ছে। শিগগিরই কোভিড-১৯ ঠেকাতে এগুলোর ব্যবহারও শুরু হতে পারে। জাগান শাপাগেইন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো টিকা নেই।’

আইএফআরসির প্রতিবেদন বলছে, শুধু গত বছরেই বিশ্বে ৩০৮টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এসবের ৭৭ শতাংশই জলবায়ু ও আবহাওয়া সংক্রান্ত। এসব দুর্যোগে অন্তত ২৪ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

default-image

বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়ে সতর্ক করে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, সত্যিকার অর্থেই এই বিশ্বে মানুষের জীবন রক্ষা করতে হলে অনেক বেশি স্থায়ী পদক্ষেপ ও বিনিয়োগ করতে হবে।

আইএফআরসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৬০ সাল থেকে আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত দুর্যোগের ঘটনা নিয়মিত হারে বাড়ছে। গত দশকে আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই দরিদ্র দেশের বাসিন্দা ছিলেন। প্রতিবেদন বলছে, প্রচণ্ড দাবদাহ ও ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আরও গুরুত্ব দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে আইএফআরসি বলেছে, ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকাদের রক্ষা করুন।’ সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী দশকে ৫০টি উন্নয়নশীল দেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বছরে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। কোভিড-১৯ মোকাবিলার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়েছে, তার তুলনায় এই ব্যয় খুবই সামান্য। ইতিমধ্যে করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা লেগেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত হওয়া বিনিয়োগের বেশির ভাগই উন্নয়নশীল দেশে যায়নি। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।

জাগান শাপাগেইন বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়কে রক্ষা করা। আমাদের গবেষণা বলছে, সম্মিলিতভাবে এই কাজ করতে আমরা ব্যর্থ।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0