ক্যামনে পরিব শাড়ি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি স্কুলে শাড়ি পরা শিখছেন কয়েকজন বিদেশী নারী। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি স্কুলে শাড়ি পরা শিখছেন কয়েকজন বিদেশী নারী। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।

বাংলাদেশ তো বটেই, ভারতের অনেক এলাকায়ই আটপৌরে জীবনে নারীর পরিধেয় প্রধান বস্ত্র হচ্ছে শাড়ি। শাড়িতে যাঁরা অভ্যস্ত নন, এমন অনেক বিদেশি ললনা শাড়ি পরা নারীকে দেখে ভাবেন, একখণ্ড দীর্ঘ কাপড়ে ককুনের মতো ওরা থাকে কী করে?
এই ভাবনার মধ্যেও শাড়ির অনন্য সৌন্দর্য মন কাড়ে। হাঁটার সময় কাঁধের ওপর ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচলের দোল তাঁদের মনেও নাড়া দেয়। তখন শাড়ি পরার একটা দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি স্কুলে শাড়ি পরা শিখছেন কয়েকজন বিদেশী নারী। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি স্কুলে শাড়ি পরা শিখছেন কয়েকজন বিদেশী নারী। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে।

শাড়ি পরতে আকাঙ্ক্ষী এসব নারীর জন্য ভারতে গড়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠান। রাজধানী নয়াদিল্লিতে রয়েছে সেই শাড়ির স্কুল।
জংপুরা এক্সটেনশন এলাকার এই বিশেষ স্কুলটি চালান রিতা কাপুর চিশতি নামের ষাটোর্ধ্ব এক নারী। সেখানে শাড়ি পরার ১০৮টি ধরন শেখানো হয়। শুধু শাড়ি পরাই নয়, স্কুলটিতে শাড়ির ইতিহাস, ভারতের গ্রামীণ এলাকার কতজন নারী শাড়ি বুননশিল্পের সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়েও ছাত্রীদের জানানো হয়। এমনকি গুজরাট, রাজস্থান, আসাম, কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকার শাড়ির আলাদা ফেব্রিক সম্পর্কেও রিতার কাছ থেকে ধারণা পান তাঁর ছাত্রীরা।
রিতার স্কুলের বেশির ভাগ ছাত্রীই বিদেশি। তবে প্রবাসী ভারতীয় নারী, বিদেশ ফেরত ভারতীয় নারী ও স্থানীয় নারীরাও এ স্কুলে শাড়ি পরা শিখতে আসেন।
বিদেশ ফেরত ভারতীয় নারী আনু আনন্দ বলেন, ‘ভারতীয় নারী হিসেবে আমি সব সময় শাড়ি পরা শিখতে আগ্রহী ছিলাম। এখন যেহেতু আমি ভারতেই থাকি, তাই এটি শেখা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই। সৌভাগ্যবশত শাড়ি পরা শেখানোর এ স্কুলটির খোঁজ পেয়েছি। আমার মতো অনেক নারীর জন্য এমন একটি স্কুলের খুব দরকার ছিল।’ বিবিসি অবলম্বনে