বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারটি ওই সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। কোটি কোটি মানুষ সেটি দেখেন। ওই সাক্ষাৎকারে ব্যক্তি ও দাম্পত্য জীবন এবং রাজপরিবার নিয়ে ডায়ানার অকপট ভাষ্য যতটা না শোরগোল ফেলেছিল, ততটাই বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল সাক্ষাৎকার নিতে বশিরের প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ ডায়ানার ভাই স্পেনসার।

default-image

ডায়ানার সাক্ষাৎকার নিতে বিবিসির সাংবাদিকের প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার তথ্য প্রকাশের পর ওই সংবাদমাধ্যমের সাবেক প্রধান টনি হল দেশটির ন্যাশনাল গ্যালারির প্রধানের পদ থেকে গত শনিবার সরে দাঁড়ান।

প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ডায়ানার সাক্ষাৎকার গ্রহণের বিষয়ে ছয় মাস নিরপেক্ষ তদন্তের পর গত বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ বিচারক জন ডাইসন একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, ডায়ানার সাক্ষাৎকার নিতে বশির প্রতারণার আশ্রয় নেন। ওই সময় বিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চেপে গিয়েছিল।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিবৃতি দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি। প্রিন্স উইলিয়াম অভিযোগ করেছেন, সাক্ষাৎকারের জন্য প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিবিসি তাঁর মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে।

আর হ্যারি বলেছেন, প্রতিবেদনটি ন্যায়বিচার ও সত্য প্রকাশের প্রথম পদক্ষেপ। তবে এমন প্রতারণার চর্চা এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এই প্রতারণা তাঁর মায়ের মৃত্যুর একটি অংশ।

এর আগে ওই সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঘটনা তদন্ত করেন টনি হল। পরে বিবিসির প্রধান হন তিনি। শনিবার ন্যাশনাল গ্যালারি (লন্ডন গ্যালারি নামেও বহুল পরিচিত) থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে টলি হল বলেন, ‘দুই দিন আগে আমি বলেছিলাম, ২৫ বছর আগের ঘটনার জন্য দুঃখিত। আমি মনে করি, (বিবিসির) নেতৃত্বের দায় নেওয়া উচিত। এটা স্পষ্ট যে আমার বর্তমান দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য বিরক্তিকর হবে।’

ডাইসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়ানার সাক্ষাৎকার নিতে সাংবাদিক বশির ভুয়া ব্যাংক স্টেটম্যান দেখান, যাতে উল্লেখ ছিল, নিরাপত্তা বাহিনী ডায়ানার কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে অর্থ দেন, যাতে তাঁর ওপর নজরদারি করেন। এরপর ডায়ানার ভাই স্পেনসারকে ওই কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে ডায়ানার সাক্ষাৎকার আয়োজনের চেষ্টায় সফল হন বশির।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন